নগরীতে বাবার সম্পত্তিতে আগ্রহ : বাবার প্রতি দায়িত্বে অনীহা! ভাইকে হাসপাতাল থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ বোনদের

স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনা মহানগরীর পূর্ব বানিয়াখামারের আল মামুনুর রশিদ খোকনের (৫৫) জীবদ্দশায় সম্পত্তির ভাগ, জমিজমা, বাড়িঘর কিংবা অর্থসম্পদ নিয়ে শুরু হয়েছে নানা হিসাব-নিকাশ। নানা নাটকীয়তার আশ্রয় নিচ্ছেন সন্তানরা। অথচ বাবার শারীরিক অসুস্থতা, মানসিক কষ্ট কিংবা দৈনন্দিন প্রয়োজনে বছরের পর বছর তারা খোঁজ নেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি খোকনের বোনরা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা করতে ভর্তি করলে সেখান থেকে তাকে নিয়ে যান সন্তানরা।
শনিবার (৭ নভেম্বর) খোকনের বোন নাসরিন আক্তার খুকু বলেন, আমার বোন মুর্শিদা বাগমারা বাড়ি। তিন তারিখ ফোন দিয়ে আমাকে জানায় আমার মেজ ভাইকে তার ছেলেমেয়েরা তার বারান্দায় অচেতন অবস্থায় রেখে গেছে। এরপরে আমরা আমাদের ভাইয়ের কাছ থেকে জানতে পারি তার সাথে কি অমানুষিক নির্যাতন চালিয়েছে তারা এরপরে আমরা খুলনা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করি ৪ তারিখে আমার ভাইকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করি ৫ তারিখ রাতে আমার ভাইয়ের ছেলে মেয়ে সাথে ২০-২৫ জন লোক নিয়ে এসে আমার ভাইকে ছিনিয়ে নিতে আসে। আশপাশে থাকা হাসপাতালের লোকজন এবং আমরা আমার ভাইকে রাখার চেষ্টা করি। পরে তারা পুলিশ নিয়ে এসে আমার ভাইকে নিয়ে যায় তাদের বাসায়। আমরা প্রশাসনের কাছে আমার ভাইয়ের নিরাপত্তা ও সুচিকিৎসার দাবি করছি।
বোন মুর্শিদা বলেন, আমি তিন তারিখ বাজার থেকে এসে দেখি আমার ভাই অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে আমি তখন এই অবস্থা দেখে আমার বোনদের খবর দিই।
অপর বোন সালমা বলেন, আমরা তিন বোন হাসপাতালে ছিলাম ৫ তারিখ রাতে। আমার ভাইয়ের ছেলে মেয়েরা সাথে ২০-২৫ জন লোক নিয়ে এসে আমার ভাইকে উঠিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। আমরা ঠেকানোর চেষ্টা করলে আমাদেরকে কিল ঘুসি মারে। পরবর্তীতে ওয়ার্ড বয় এবং পুলিশের সাহায্যে আমার ভাইকে নিয়ে যায়। আমার ভাই স্ট্রোকের রোগী সে অধিকাংশ সময় ঠিকমতো কথা বলতে এবং চলাফেরা করতে পারে না। তারা জোর জুলুম করে বিভিন্ন জায়গায় স্বাক্ষর নিয়ে অনেক কিছু দখল করছে আমরা প্রশাসনের কাছে আমার ভাইয়ের নিরাপত্তা এবং সু চিকিৎসার দাবি করছি।
এ বিষয়ে মামুনুর রশিদের ছোট মেয়ে সুমনা বলেন, বাবা আমার বাসায় ছিলেন। সেখান থেকে একা একা বের হয়ে গেছিলেন। পরে আমরা খুঁজে না পেয়ে সাধারণ ডায়রি করি। পরে জানতে পারি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধিক আছেন। আমরা ৩ ভাই বোন গিয়ে বাবাকে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে এসেছি। কাউকে মারধর করিনি।
খোকনের বোনরা জানান, ২০ বছর আগে স্ত্রী রেহেনা এর সাথে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায় আল মামুনুর রশিদ খোকনের (৫৫)। এরপর স্ত্রী সন্তানদের (সুমনা, তুষার ও মুক্তা) নিয়ে অন্যত্র চলে যায়। সেই থেকে মামুনুর রশিদ খোকনের দেখাশোনা করেন তার বোন হাসিনা খাতুন। কিছুদিন আগে মামুনুর রশিদ খোকন ব্রেন স্টোক করায় তাকে খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ব্রেন স্টোক করায় খোকন সৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলেন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ২ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে খোকনের মেয়ে সুমনা তাকে রিলিজ করিয়ে অন্যত্র নিয়ে যান।
এ বিষয়ে মহানগরীর পূর্ব বানিয়াখামার ডি-আলী স্কুলের পিছনের বাসিন্দা হাসিনা খাতুন সোনাডাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগও করেছিলেন।



