স্থানীয় সংবাদ

মহেশ্বরপাশা স্টিল সাইলো থেকে দুই ট্রাক গম পাচারচেষ্টা মামলায় দুই জন রিমান্ডে

# আরিফ, মেহেদী ও কামরুলকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ
# সরকারি সম্পত্তি পাচারে সম্পৃক্ত থাকলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না : ওসি

স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনার দৌলতপুর থানাধীন মহেশ্বরপাশা সিএসডির অভ্যন্তরে খাদ্য অধিদপ্তরের স্টিল সাইলো থেকে দুই ট্রাক সরকারি গম পাচারের চেষ্টার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় নতুন মোড় নিয়েছে। এ ঘটনায় আরিফ হোসেন, মেহেদী ও মো. কামরুলকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় এইচ এম আল ইমরান ও রাজিবকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে। রোববার (৮ নভেম্বর) খুলনার সিএমএম আদালতে দৌলতপুর থানা পুলিশের করা পৃথক আবেদনের শুনানি শেষে আদালত এ আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দৌলতপুর থানার পুলিশ কর্মকর্তা তন্ময় কুমার বসুর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেওয়া হয়। দৌলতপুর থানা সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে দৌলতপুর থানায় মামলা নম্বর-১ হিসেবে মামলাটি রুজু হয়। সাইলো সুপার অরূপ কুমার মিশ্র বাদী হয়ে দ-বিধির ৩৮০/৫১১ ধারায় মামলাটি দায়ের করেন।
ওই ঘটনায় জড়িত ইতোপূর্বে আটক দুই আসামী মো. রাজিব ও মো. ইমরানকে মামলার তদন্তের স্বার্থে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিজ্ঞ আদালতে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে, শুনানি শেষে ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রবিবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে খুলনা চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আরিফসহ ৩ জনকে ওই মামলার আসামী হিসাবে গ্রেপ্তার ও ইতোপূর্বে আটক দুই আসামীর ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের এ আদেশ দেন, একইদিকে মামলার আসামী হিসাবে অর্ন্তভুক্ত ইউনিয়ন সভাপতি মো. আরিফ হোসেনসহ ৩ জনের মামলার তদন্তের স্বার্থে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিজ্ঞ আদালতে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন দাখিল করা হয়েছে, বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) এসআই তন্ময় কুমার বসু। মানিকতলা খাদ্য গুদামের অভ্যন্তরে সাইলোর গম পাচার প্রচেষ্টার সার্বিক ঘটনাটিকে ঘিরে সুশীল সমাজের সচেতন ব্যক্তিবর্গের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে গম পাচারের ঘটনায় সম্পৃক্ততায় দায়ে পুলিশের হাতে আসামী গ্রেপ্তার হওয়ার পরও কেন অজ্ঞাতনামা আসামী করে মামলা দায়ের করা হলো, তা ঘিরে সর্বত্র রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মানিকতলা খাদ্য গুদামের অভ্যন্তরীন সাইলো থেকে গম পাচারের ঘটনায় ইতোমধ্যে আদালতে প্রমানিত আসামীর ছাড়াও কেউ জড়িত থাকার বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারী জানিয়েছেন দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মু. মোরাদুল ইসলাম। তিনি জানান, রাষ্ট্রের সরকারি সম্পত্তি পাচারের কাজে কেউ জড়িতের সম্পৃক্ততা থাকলে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইননানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। মামলার তদন্তের কার্যক্রম চলমান রয়েছে, অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিষয়টি দেখা হচ্ছে, এ সিন্ডিকেটের সাথে কারো সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
সূত্রে জানা যায়, গত ২ নভেম্বর (সোমবার) খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর থানাধীন মানিকতলা খাদ্য গুদামের অভ্যন্তরীন সাইলো থেকে দুই ট্রাক গম কোনো ইনভয়েস ছাড়া অবৈধভাবে ট্রাক লোড করে পাচারের প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে, এমন তথ্য ও অভিযোগের ভিত্তিতে দৌলতপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘটনার সত্যতা খুঁজে পায়। ওই ঘটনায় সম্পৃক্ততার সত্যতা পেয়ে তিনজন সন্দিগ্ধকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। সন্দিগ্ধ আসামীরা হলেনÑ ১. মহেশ্বরপাশা খাদ্য গুদাম ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ আরিফ হোসেন, ২. মেহেদী হাসান ও ৩. কামরুজ্জামান। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে পুলিশের হেফাজতে থাকা ৩ জনকে ৫৪ ধারায় সন্ধিগ্ধ আসামী হিসাবে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়। একইদিন মানিকতলা খাদ্য গুদামের অভ্যন্তর হতে মো. ইমরান ও মো. রাজিব নামের আরও দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বুধবার (৪ নভেম্বর) ওই ঘটনায় জড়িত অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে সাইলো সুপার অরূপ কুমার মিশ্র বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন (মামলা নং -১)। একইদিন গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামীকেও বিজ্ঞ আদালতে সোর্পদ করে পুলিশ। সূত্রে আরও জানা গেছে, খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর থানাধীন মানিকতলা খাদ্য গুদামের অভ্যন্তরীন সাইলো থেকে দুই ট্রাক গম কোনো ইনভয়েস ছাড়া অবৈধভাবে ট্রাক লোড করে পাচারের প্রচেষ্টা চালানোর ঘটনায় অজ্ঞাতানামা আসামীর বিরুদ্ধে রুজু হওয়া মামলার তদন্তের কার্যক্রম শুরু করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই তন্ময় কুমার বসু। তদন্তের একপর্যায়ে ওই ঘটনায় গত ৩ নভেম্বর দুপুরে ৫৪ ধারায় বিজ্ঞ আদালতে সন্ধিগ্ধ আসামী হিসাবে প্রেরণ করা ইউনিয়ন সভাপতি আরিফসহ ৩ জনের সম্পৃক্ততার সত্যতা মেলে। যার পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার (৮ নভেম্বর) খুলনা চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (সিএমএম) আরিফসহ ৩ জনকে মামলার আসামী হিসাবে গ্রেপ্তার আদেশ দেন এবং ইতোপূর্বে গ্রেপ্তার দুই আসামীর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এছাড়া দায়ের হওয়া মামলার তদন্তের কার্যক্রমও চলমান আছে বলে সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই তন্ময় কুমার বসু জানান, মানিকতলা সাইলো হতে গম পাচারের অভিযোগে সাইলো সুপার অজ্ঞাতনামা আসামীর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর কার্যক্রম শুরু করি। তদন্তের এক পর্যায়ে ইতোপূর্বে ৫৪ ধারায় বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা সদ্ধিন্ধ আসামী আরিফসহ ৩ জনের ওই ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকার সত্যতা ও প্রমান মেলায়য় সিএমএম আদালত এ মামলার তাদের আসামী হিসাবে অর্ন্তভুক্তি ও গ্রেপ্তার আদেশ দেন এবং একই সাথে ইতোপূর্বে গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামীর ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলার তদন্তের কার্যক্রম চলমান আছে। এ বিষয়ে মহেশ্বরপাশা খাদ্য গুদাম ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সাঃ সম্পাদক মো. সেলিম কাজী (সেলিম মাষ্টার) জানান, শুক্রবার হতে সিএসডির সকল কার্যক্রম চালু হয়েছে এবং এ কার্যক্রম চলমান থাকবে। সাইলোর গম পাচারের ঘটনায় ইউনিয়ন সভাপতিসহ যাদের আটক করা হয়েছে তারা গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার, তাদের গভীর ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেন এ শ্রমিক নেতা।
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানা অফিসার ইনচার্জ মু. মোরাদুল ইসলাম জানান, মানিকতলা খাদ্য গুদামের অভ্যন্তরীন সাইলো থেকে গম পাচারের ঘটনায় আরিফসহ ৩ জনের সম্পৃক্ততার প্রমান পাওয়ায় আদালতে তাদের মামলার আসামী হিসাবে অর্ন্তভুক্তির আদেশ দিয়েছে। একই সাথে পূর্বে আটক দুই আসামীর ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে। তিনি আরও জানান, রাষ্ট্রের সরকারি সম্পত্তি পাচারের এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া আসামী ছাড়াও অন্য কারো সম্পৃক্ততা থাকলে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইননানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে, মামলার তদন্তের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
উল্লেখ্য, মহেশ্বরপাশা খাদ্য গুদাম ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সভাপতি ইউনিয়ন সভাপতি আরিফকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে গত ৩ নভেম্বর (মঙ্গলবার) সকালে শ্রমিকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে খুলনা-যশোর মহাসড়ক অবরোধ করে। একই সাথে মানিকতলা খাদ্য গুদামে সব ধরনের লোড-আনলোড কার্যক্রম বন্ধ দেন। সর্বশেষ তথ্যসূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার হতে সিএসডির সকল কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button