স্থানীয় সংবাদ

প্রাথমিক পর্যায় পল্লী চিকিৎসকসহ দু’জন সিআইডি পুলিশের খাঁচায়

# যশোরের কেশবপুরের ঘের ব্যবসায়ী রঞ্জন ম-ল হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন #

যশোর ব্যুরো ঃ পল্লী চিকিৎসকের দোকানে আটকে রেখে ইনজেকশন পুশ করে হত্যা করার পর রঞ্জন মন্ডলের মরদেহ মোটরসাইকেলে নিয়ে নদীর কাছে নিয়ে ফেলে দেয়। যশোরের কেশবপুর উপজেলার কালিচরণপুর গ্রামের ঘের ব্যবসায়ী রঞ্জন ম-ল হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন এবং হত্যাকা-ে জড়িত থাকার অভিযোগে প পল্লী চিকিৎসকসহ দুজনকে আটক করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। দু’জন আটকের পর বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। এ সময় হত্যাকা-ে ব্যবহৃত সিরিঞ্জ, নিহতের গলার সোনার চেইন, আংটি, মরদেহ বহনে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। আটককৃতরা হচ্ছে,যশোরের মণিরামপুর উপজেলার মহিষদিয়া গ্রামের বিষ্ণুপদ ধরের ছেলে পল্লিচিকিৎসক মিঠুন ধর এবং সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার দক্ষিণ ভাদিয়ালী গ্রামের মৃত জব্বার গাজীর ছেলে আব্দুল হান্নান গাজী। রোববার ৮ নভেম্বর বিকেলে আটক দুজনকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
সিআইডি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ নভেম্বর শনিবার মণিরামপুর উপজেলার মহিষদিয়া গ্রামের হেলারের ঘাট ব্রিজসংলগ্ন মুক্তেশ্বরী নদীতে বস্তাবন্দি অবস্থায় অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহ পাওয়া যায়। পরে স্বজনরা মরদেহটি কেশবপুর উপজেলার কালিচরণপুর গ্রামের ঘের ব্যবসায়ী রঞ্জন ম-লের বলে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় তাঁর ভাতিজা দেবাশীষ ম-ল বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে রোববার ৮ নভেম্বর মণিরামপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। সিআইডির তদন্তে নিহতের মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড (সিডিআর), বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ এবং স্থানীয়ভাবে অনুসন্ধানের মাধ্যমে পল্লিচিকিৎসক মিঠুন ধরের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়।
সিআইডি পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে গত ৬ নভেম্বর দুপুরে রঞ্জন ম-ল কাটাখালী বাজারে পল্লিচিকিৎসক মিঠুন ধরের চেম্বারে যান। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। ঘটনার পর মিঠুন ধরকেও এলাকায় পাওয়া যাচ্ছিল না। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিআইডি জানতে পারে, আব্দুল হান্নান গাজীর সহায়তায় মিঠুন ধর সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার ভাদিয়ালী সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এ তথ্যের ভিত্তিতে সিআইডি যশোরের একটি দল কলারোয়া থানা পুলিশের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে দুজনকে আটক করে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির এসআই দেলোয়ার হোসাইন সাংবাদিকদের জানান, শুক্রবার ৬ নভেম্বর দুপুরে মিঠুন ধরের ফার্মেসিতে যান রঞ্জন ম-ল। একপর্যায়ে মিঠুন ফার্মেসির শাটার বন্ধ করে চলে যান। কিন্তু রঞ্জনকে আর ফার্মেসি থেকে বের হতে দেখা যায়নি। দুপুর আড়াইটার দিকে মিঠুন ফার্মেসি খুলে একটি ভরা বস্তা মোটরসাইকেলের পেছনে বেঁধে নিয়ে চলে যান। ওই বস্তায় রঞ্জন ম-লের মরদেহ ছিল। বস্তাটি মিঠুন প্রথমে গ্রামের একটি সরু রাস্তার পাশে রেখে দেন। পরে রাতে বস্তার মুখে ইট বেঁধে মুক্তেশ্বরী নদীতে ফেলে দেন।
এসআই দেলোয়ার হোসাইন আরও জানান, আটক মিঠুন ধরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের ব্যবহৃত সোনার চেইন ও আংটি এবং মরদেহ বহনে ব্যবহৃত মিঠুনের মোটর সাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া, কাটাখালী বাজারে মিঠুন ধরের দোকান থেকে নিহতকে দেওয়া ইনজেকশনের প্যাকেটও উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, রঞ্জন ম-লের সহায়-সম্পত্তি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে মিঠুন ধর তাকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button