সম্পাদকীয়

দুই সিটি করপোরেশন নগরসেবা কার্যক্রম গতিশীল হোক

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে সরকার পতনের পর থেকে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বেশির ভাগ কাউন্সিলর পলাতক রয়েছেন। এ কারণে ওয়ার্ড কাউন্সিলর অফিস থেকে জনগণ সেবাবঞ্চিত হচ্ছেন। জানা গেছে, দুই সিটির কাউন্সিলর কার্যালয় থেকে দেওয়া সনদ ও ওয়ার্ড পর্যায়ের সেবা কার্যক্রম তদারকি হচ্ছে না। বাস্তবতা অনুধাবন করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয় থেকে জন্মনিবন্ধন সেবা আঞ্চলিক কার্যালয়ে স্থানান্তর করেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, মেয়রদের অপসারণ করে কাউন্সিলরদের রেখে নগর প্রশাসন ও সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। কারণ, কাউন্সিলর পদে যারা রয়েছেন, তারা বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে বিজয়ী। ওয়ার্ড পর্যায়ের এসব জনপ্রতিনিধি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করেছেন; নানাভাবে অত্যাচার, নির্যাতন, নিপীড়ন ও মানুষের সম্পদ দখল করেছেন। দুই সিটি করপোরেশনের বর্তমান পরিষদের ৯৫ ভাগ কাউন্সিলর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী। তাদের অনেকে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে মানুষ হত্যার সঙ্গেও জড়িত ছিল। কাজেই তাদের বহাল রেখে নগরসেবা কার্যক্রম সচল রাখা সম্ভব নয়। উল্লেখ্য, গেল ১৯ আগস্ট স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে ১২টি সিটি করপোরেশনের মেয়রকে অপসারণ করে প্রশাসক নিয়োগ দেয়। তবে কাউন্সিলরদের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। অবশ্য সরকার চাইলে এখন কাউন্সিলরদেরও অপসারণের ক্ষমতা রাখেন। আমরা মনে করি, নগরসেবা নিশ্চিত ও বিভিন্ন ওয়ার্ডে চলমান থাকা অর্ধসমাপ্ত কাজ সমাধা করতে দ্রæত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা দরকার। জনসেবা নিশ্চিতে প্রয়োজনে এসব কাজ আঞ্চলিক কার্যালয়ে স্থানান্তর করা যেতে পারে। যেহেতু আঞ্চলিক কার্যালয়ে উপসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তার নেতৃত্বে দক্ষ কর্মী বাহিনী নিয়োজিত রয়েছে, তাই আপৎকালীন এটাই হবে সর্বোত্তম পন্থা। বলা বাহুল্য, আন্দোলন চলাকালে জনরোষে নগরের বেশ কয়েকটি কাউন্সিলর কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। দ্রæত সংস্কারের মাধ্যমে এসব কার্যালয় চালুর পদক্ষেপও নেওয়া প্রয়োজন। নগর পরিচালনার কাজটি জনপ্রতিনিধিদের দ্বারাই পরিচালিত হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে আপদের সময়ে আঞ্চলিক কার্যালয়ের মাধ্যমে কর্মকাÐ পরিচালনা করা হলেও সরকারের উচিত হবে যথাসম্ভব দ্রæত তা জনপ্রতিনিধিদের কাছেই ফিরিয়ে দেওয়া। সেজন্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। নাগরিক সেবা নিরবচ্ছিন্নভাবে রাখতে অন্তর্বর্তী সরকার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার পরিচয় দেবে বলে আমরা আশা করি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন
Close
Back to top button