সম্পাদকীয়

ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামতে নজর দিন

অতিবৃষ্টিজনিত বন্যা ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে দেশের বিভিন্ন জেলার সড়ক তলিয়ে গেছে। এগুলোর মধ্যে যেসব সড়ক থেকে পানি সরে গেছে, সেখানে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন। এগুলোর কোনোটি ভেঙে গেছে, কোনোটিতে ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দিয়ে যানবাহন ও মানুষ চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সড়কের পিচ-খোয়া উঠে বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। এসব খানাখন্দ এড়িয়ে যানবাহন চলতে হচ্ছে এঁকেবেঁকে। ফলে যানবাহনের গতি ধীর হয়ে গেছে, ঘটছে নানা দুর্ঘটনাও। ভাঙা সড়ক যাতায়াত করার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করার জন্য মানসম্পন্ন যাতায়াত ব্যবস্থার বিকল্প নেই। সাম্প্রতিক বন্যায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের বিভিন্ন সড়ক বিভাগের ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, সেতু, কালভার্টের তথ্য সড়ক ভবনে স্থাপিত বন্যা তথ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে। আর তা প্রতিবেদন আকারে পাঠানো হয়েছে সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়ে। এতে বলা হয়েছে, তিনটি জোনের মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি সড়ক বিভাগের ১১১টি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের দৈর্ঘ্য ৪৬২ দশমিক ২১ কিলোমিটার। সড়ক ও জনপথ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের মধ্যে ৯০ দশমিক ৬৩ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক, ৫২ দশমিক ৮৮ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং ৩১৮ দশমিক ৭০ কিলোমিটার জেলা মহাসড়ক। চট্টগ্রাম সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় চলমান বন্যায় চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ক্ষত স্বল্পমেয়াদি ঠিক করতে ৩০ লাখ এবং দীর্ঘমেয়াদি ঠিক করতে আড়াই কোটি টাকার প্রয়োজন আছে। এ ছাড়া সেতু ও কালভার্ট কিছুকিছু স্থানে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলিকে খুব দ্রুত মেরামত করতে হবে। প্রতি বছরই দেশের কোনো না কোনো এলাকায় বন্যা হওয়ায় সেখানকার সড়ক-মহাসড়কে সৃষ্টি হয় বড় বড় গর্ত, ক্ষতিগ্রস্ত হয় সেতু। পরবর্তী সময় বন্যার পানি নেমে গেলে সড়ক-সেতু ব্যবহারের উপযোগী থাকে না। ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয় যানবাহনকে। সংশ্লিষ্ট এলাকার সাধারণ মানুষের জীবনে নতুন ভোগান্তির শিকার হতে হয়। কিন্তু এ ভোগান্তি কারও দায়িত্বহীনতায় দীর্ঘায়িত হবে, এটি দুঃখজনক। বন্যা-জলোচ্ছ্বাসের মতো পানিসৃষ্ট দুর্যোগ-দুর্বিপাক যাতে সম্পদ বিনষ্টের পাশাপাশি মানুষের চলার গতি শ্লথ করতে না পারে, সে লক্ষ্যে স্থায়ী কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেয়া উচিত।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button