সম্পাদকীয়

পাটের স্বর্ণযুগ ফিরে আসুক

পাট একটি বৃষ্টিনির্ভর ফসল, যা বাংলাদেশে বহুলাংশে জন্মে। পাট ‘গোল্ডেন ফাইবার’ নামেও পরিচিত। পাট মানুষ ও প্রকৃতি উভয়ের জন্যই উপকারী। একসময় পাট ছিল বাংলার প্রধানতম অর্থকরী ফসল। কৃত্রিম আঁশ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববাজারে পাটের ছিল আকাশচুম্বী চাহিদা। আর বাংলাদেশে উৎপন্ন হতো সবচেয়ে উৎকৃষ্টমানের পাট। পাটকে বলা হয় সোনালি আঁশ। পাটের রয়েছে নানান ব্যবহার। বাংলাদেশকে সোনালি আঁশের দেশ বলা হতো। এর কারণ বাংলাদেশের পাটের বিশ্বময় সুখ্যাতি ছিল। এ ছাড়া বৈদেশিক আয়ের সিংহভাগই আসত পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি থেকে। কিন্তু কালের চক্রে পাটের সেই সোনালি দিন হারিয়ে গেছে। প্লাস্টিকসহ বিকল্প অনেক পণ্যের ব্যবহার বাড়ায় পাটপণ্য হারায় তার আভিজাত্য। ফলে এক এক করে একসময়ের অনেক পাটকলই বন্ধ হয়ে যায়। ২০১০ সালের পর থেকে পাটের আবাদ কখনো নেমেছে আবার কখনো উঠেছে। বাজারমূল্য কমে গেলেও কখনো পাট চাষ থেকে মুখ ফেরাননি চাষিরা। কৃষকের এই দরদই বাঁচিয়ে রেখেছে সোনালি আঁশের সম্ভাবনা। প্লাস্টিক এখন সর্বত্রই। কী অফিসের কাজে, কী ঘরে সব জায়গায় প্লাস্টিকের রাজত্ব। সেন্টার ফর বায়োলজিক্যাল ডাইভারসিটি বলছে, ২০৫০ নাগাদ সমুদ্রে মাছের চেয়ে প্লাস্টিক বর্জ্যরে পরিমাণ বেড়ে যাবে। চলতি শতকে আমরা যে পরিমাণ প্লাস্টিক উৎপাদন ও ভোগের মধ্য দিয়ে গিয়েছি, তা পৃথিবীর ইতিহাসে রেকর্ড! নিষিদ্ধ প্লাস্টিক ব্যাগের ব্যবহার পাটজাত পণ্যের জনপ্রিয়তাকে প্রভাবিত করেছে। পলিথিন বেশি জনপ্রিয় হওয়ার প্রধান কারণ উৎপাদন খরচ কম। পলিথিন পরিবেশের ক্ষতি করে কারণ এটি মাটিতে পচনশীল নয়, ফলে এটি মাটির উর্বরতা নষ্ট করে। পলিথিন উৎপাদনের সময় বায়ুম-লে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়, যা বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। সিন্থেটিক পণ্য পানির প্রবাহকে বাধা দেয় এবং ফলে বন্যা ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এটি প্রচুর পরিমাণে অজৈব যৌগ বর্জ্যও তৈরি করে, যা আমাদের জন্য একটি বিশাল সমস্যা। অপরদিকে পাট আমাদের পরিবেশের জন্য খুবই উপকারী। পাটের ফাইবার ১০০% বায়ো-ডিগ্রেডেবল এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য এবং এইভাবে পরিবেশবান্ধব। এক হেক্টর পাট গাছ প্রায় ১৫ টন কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ করে এবং ১১ টন অক্সিজেন নির্গত করে। তাই আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে পাটের ব্যবহার বাড়াতে হবে। ফিরিয়ে আনতে হবে পাটের ঐতিহ্য। পাটের সুদিন ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি এ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিপুল শ্রমিকের স্বার্থের দিকে নজর দিতে হবে। কৃত্রিম পণ্যের কাছে পাট খাত যাতে মার না খায় সে উদ্যোগও নেওয়া দরকার।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button