সম্পাদকীয়

সরকারি হাসপাতালে দালালের দৌরাত্ম্য: আইন প্রয়োগ করুণ

অসুস্থতার থেকে স্বস্তির জন্য প্রয়োজন সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসার। বাংলাদেশ অধিক জনসংখ্যার দেশ হওয়ার ফলে এ দেশের অধিকাংশ মানুষ নি¤œ আয়ের। এতে পরিবারের ভরণ-পোষণ কোনো রকম চালিয়ে যেতে পারলেও অধিকাংশ মানুষ অপ্রত্যাশিত অসুস্থতা কিংবা রোগের চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে পারেন না। সাধারণ মানুষ অর্থের অভাবে যেন চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেই জন্য প্রত্যেকটি জেলায় সরকারি হাসপাতাল নির্মাণ করেছেন সরকার। এতে সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসে। কিন্তু প্রশ্ন হলো সাধারণ মানুষ সরকারি হাসপাতালগুলোতে সঠিক সেবা পাচ্ছে কী? দৈনিক পত্রিকার খবর থেকে জানা যায়,দালালের দৌরাত্ম্য সরকারি হাসপাতাল ঘিরে সক্রিয় দালাল চক্র। সেবাবঞ্চিত সাধারণ রোগীরা। রাজধানীর অদূরে টঙ্গী স্টেশন রোড এলাকায় ২৫০ শয্যার আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতাল। জয়দেবপুর এলাকায় ৫০০ শয্যার শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। টঙ্গীর আশপাশে আর কোনো সরকারি হাসপাতাল না থাকায় এই হাসপাতালই সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবার অবলম্বন। প্রতিদিন শত শত রোগী এখানে আসেন বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নিতে। অথচ দালালদের কারণে সেবা পাচ্ছেন না সাধারণ রোগীরা। একই ঘটনার সম্মুখীন শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালও। স্বল্প আয়ের মানুষের চিকিৎসাসেবার একমাত্র অবলম্বন টঙ্গী ২৫০ শয্যা সরকারি হাসপাতাল ও শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। এই সরকারি হাসপাতাল ঘেঁষে রয়েছে অসংখ্য বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এসব হাসপাতালের দালালরা রোগীদের ভাগিয়ে নিয়ে যায় অন্যত্র। ফলে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীরা বিনামূল্যে সেবা পাচ্ছেন না। অভিযোগ উঠেছে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর ১১ বছরের এক শিশু জ¦রে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে নেওয়া হয় টঙ্গী হাসপাতালে। এসময় সেখানে থাকা এক দালাল উন্নত চিকিৎসার প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যান টঙ্গীর স্টেশন রোড এলাকায় মা মেডিকেল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। তবে এভাবে শুধু একটি কিংবা দুটি শিশু নয় প্রতিদিন শত শত ভুক্তভোগী শিকার হচ্ছেন দালাল চক্রের হাতে। এভাবে শুধু টঙ্গি হাসপাতাল নয়, দালালচক্র সক্রিয় সারাদেশের হসপিটাল গুলিতে। এমন ঘটনাগুলো ঘটার পরেও কর্তৃপক্ষ আর কত চুপ করে থাকবেন? এই অভিযোগ কেবল মাত্র নয়, বরং এই অভিযোগ বিগত কয়েক বছর থেকে ভুক্তভোগীরা করে আসছেন। আমরা এই নিয়ে অনেক প্রতিবেদনও করেছি, অথচ এর কোনো যৌক্তিক সমাধান এখনো মিলেনি। অন্তর্বর্তী সরকার এই বিষয়ে দ্রুত একটি যৌক্তিক সমাধান করে রোগীদের সুচিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবেন, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন
Close
Back to top button