সম্পাদকীয়

গোমতী নদীকে রক্ষা করুন

কুমিল্লার দুঃখের আরেক নাম গোমতী। কুমিল্লার খরস্রোতা গোমতী নদী এখন দখল, দূষণে বিপর্যস্ত। নদীর কোথাও জলের ক্ষীণধারা, কোথাও চর। নদী থেকে বালু উত্তোলন ও অবাধে মাটি কেটে পানি দূষিত করা হচ্ছে। কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার কটকবাজার থেকে দাউদকান্দি উপজেলার কলাতিয়া পর্যন্ত ৯০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নদী। এর মধ্যে শহরের গা ঘেঁষে রয়েছে সাড়ে ৪ কিলোমিটার ও শহরের ভেতরের সাড়ে ৫ কিলোমিটারসহ মোট ১০ কিলোমিটার। ষাটের দশকে পাকিস্তান সরকার কুমিল্লা শহরকে রক্ষা করতে একটি বাঁধ নির্মাণ করে। এতে নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে গোমতী নদী দুই ভাগে বিভক্ত হয়। শহরের ভেতরে রয়েছে সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ পুরাতন গোমতী নদী। বাঁধ থাকায় এ অংশে পানি থাকে সব সময়। কিন্তু মূল নদীতে পানির গতিধারা কম থাকে। একের পর এক দখল, দূষণ ও ভরাটের কারণে কুমিল্লা নগরীর পুরাতন গোমতী নদী এখন পুরোপুরি অস্তিত্ব সংকটে। প্রতিনিয়ত যেন নদীটি গিলে খাচ্ছেন প্রভাবশালী দখলকারীরা। দখলের পর নদীর সম্পত্তিতে নির্মিত হয়েছে দোকানপাট ও বহুতল ভবন। প্রাকৃতিক এই জলাধারে ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা। নদী পাড়ে গেলে মনে হয়, সবাই যেন নদীটি দখল ও ভরাটের প্রতিযোগিতায় নেমেছেন! এছাড়া নদীর বিভিন্ন অংশে সুয়ারেজ লাইন এবং আবর্জনা ফেলায় নদীটি এখন প্রায় মৃত। বিগত সময়ে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করার জন্য প্রশাসন পদক্ষেপ নিলেও রাজনৈতিকসহ বিভিন্ন কারণে তা আজও আলোর মুখ দেখেনি। এদিকে নদীর পাড়ের বাসিন্দাদের বাড়িঘর, শহরের ড্রেনের দূষিত ময়লা-আবর্জনা, অসংখ্য ঝুলন্ত পায়খানার মানববর্জ্য, কচুরিপানায় একাকার হয়ে নদীর পানি কালো-দুর্গন্ধময় ও বিষাক্ত হয়ে পড়েছে। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে আছেন মরা নদীর দুই পাড়ের বাসিন্দারা। এক সময় কুমিল্লা শহর ঘেঁষে প্রবহমান ছিল গোমতী নদী। তখন বর্ষাকালে বন্যায় নদীর পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পেলে বাঁধ ভেঙে শহর তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় মানুষের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করত। তাই শহর রক্ষায় গত শতাব্দীর ষাটের দশকে এ নদীর গতিপথ পরিবর্তন করা হয়। এরপর থেকে শহরের উত্তর প্রান্তের কাপ্তানবাজার থেকে পূর্ব প্রান্তের শুভপুর এলাকা পর্যন্ত নদীর প্রায় ছয় কিলোমিটার অংশ ‘পুরাতন’ বা ‘মরা’ গোমতী নদী নামে পরিচিতি লাভ করে। তাই নদীকে রক্ষা করতে হলে অবৈধ দখলদার ও বিভিন্ন স্থাপনা সরিয়ে দিতে হবে। সরকার ও সংশ্লিষ্টদের এসব দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button