সম্পাদকীয়

সুন্দরবনে তৎপর হয়ে উঠেছে বনদস্যুরা

দীর্ঘ স্থিতিশীলতার পর সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলে আবারও বেড়েছে বনদস্যুেদর উৎপাত। এতে ঝুঁকিতে পড়েছেন বনজীবীরা এবং গভীর উদ্বেগে আছেন উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দারা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি কমায় পশ্চিম সুন্দরবনে বনদস্যুেদর তৎপরতা বেড়েছে। কিছুদিন আগে বন বিভাগের অভিযানে ১০ জেলে উদ্ধারের পর আবারও নতুন করে তিন জেলেকে অপহরণের পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র ও বন্দুক নিয়ে বনজীবীদের সব কেড়েও নিচ্ছেন দস্যুরা। নতুন নতুন ডাকাত দলকে বনের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় বনজীবীরা। এক সময় জেলে, বাওয়ালি থেকে শুরু করে পর্যটকরাও থাকতেন আতঙ্কে। ছয় বছর আগে বনদস্যুেদর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে ২০১৮ সালের নভেম্বরে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ঘোষণা করা হয়। এখন আবারও সুন্দরবনে তৎপর হয়ে উঠেছে বনদস্যুরা। গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জেল ভেঙে পালিয়ে আসা কয়েদি ও চিহ্নিত আসামিরাও সুন্দরবনে দস্যুতা শুরু করেছেন। তাঁরা সুন্দরবনে মৎস্য আহরণে যাওয়া জেলেদের কাছ থেকে মাছ, টাকা, মুঠোফোনসহ সবকিছু কেড়ে নিচ্ছেন। এমনকি বনে ঢ়ুকলে জেলেদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের চাঁদাও দাবি করছেন। গত তিন মাসে পশ্চিম সুন্দরবনে অন্তত তিনটি অপহরণের ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এর বাইরেও অপহরণের ঘটনা ঘটলেও জেলেরা পরবর্তী ঝামেলা এড়াতে প্রকাশ করতে চান না।রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাতক্ষীরা জেলা কারাগার থেকে পালানো দাগি আসামি এবং ছয় বছর আগে আত্মসমর্পণ করা দস্যুরা সুন্দরবনে গিয়ে শুরু করেছে দস্যুতা। নতুন নতুন ডাকাত দলকে বনের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় বনজীবীরা। নজরদারি ও তদারকির অভাবে সুন্দরবনে আবারও দস্যুেদর উৎপাত বেড়েছে। এ ধরনের অপরাধ চলতে থাকলে একদিকে যেমন বনজীবীদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে, অন্যদিকে সুন্দরবন থেকে রাজস্ব আদায়ও কম হবে। সুন্দরবনে পর্যটকের সংখ্যাও কমে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। বিপন্ন হবে বেঙ্গল টাইগার, বন্য প্রাণী আর প্রাণবৈচিত্র্য। এখনই দস্যুেদর দমন না করলে কিছুদিনের মধ্যে অস্ত্র বাড়াবেন তাঁরা। দল বড় হবে। এ জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবশ্যই সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে হবে। বনদস্যুেদর এভাবে বাড়তে দিলে সেটা ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে। কোস্টগার্ড, নৌ-বাহিনী, র‌্যাব আর বন বিভাগকে সমন্বিতভাবে সুন্দরবন নিরাপদ রাখতে কাজ করতে হবে। টহল বাড়াতে হবে, তদারকি বাড়াতে হবে।’ দস্যুমুক্ত সুন্দরবনে কেন আবার ডাকাতের উৎপাত বেড়েছে, তার কারণ অনুসন্ধানও জরুরি। এ ব্যাপারে আমরা জেলা-উপজেলার স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মনোযোগ আকর্ষণ করছি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন
Close
Back to top button