ডেঙ্গুর আতঙ্ক: শহর ও গ্রামে বিস্তৃত সংকট

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ডেঙ্গু মশার প্রকোপ দেশে আবারো বেড়েছে, যা দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং নাগরিক জীবনে নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ১০ জনের মৃত্যু এবং ১ হাজার ১৬১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খবর এসেছে, যা প্রমাণ করে ডেঙ্গু এক ক্রমবর্ধমান আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজধানী ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনেই ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেখানে মৃত্যু হয়েছে ছয়জনের। এভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, বিশেষ করে ঢাকা শহরের দুই সিটি করপোরেশন এলাকায়। ২০১৩ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত, ডেঙ্গু বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মাত্রায় দেশের জনগণকে আক্রান্ত করছে। ২০২৩ সালে ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন রোগী আক্রান্ত এবং ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল। তবে, প্রতিটি বছরেই ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টার পরেও নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ সামনে আসছে, যা সরকারের স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং নাগরিক সচেতনতা কার্যক্রমকে আরও তীব্র করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে। বিশেষ করে, ঢাকা শহরের মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণ ডেঙ্গুর বিস্তারকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। রাজধানীর জলাবদ্ধতা, নিকটবর্তী আবাসন এবং অপর্যাপ্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কারণে মশার প্রজনন বেড়ে যাচ্ছে, যা ডেঙ্গুর ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ। শহরের মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা আরো বেড়েছে, আর এর জন্য শুধু স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রচেষ্টা নয় বরং স্থানীয় সরকারগুলোর কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন। অপরদিকে, গ্রামাঞ্চলেও স্বাস্থ্যব্যবস্থা ডেঙ্গুর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়নি। বিভিন্ন অঞ্চলে অবকাঠামো ও চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাব এবং লোকবল সংকট ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। বিশেষত, স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে পরিপূর্ণ সুবিধা না থাকার কারণে রোগীরা দেরিতে চিকিৎসা পাচ্ছে, যা মৃত্যুর সংখ্যা বাড়িয়ে দিয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য, শুধু জরুরি ব্যবস্থা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে। মশা নিধন কার্যক্রম আরও তীব্রভাবে চালানো, হাসপাতালগুলোর অবকাঠামো এবং চিকিৎসা সেবার মান বৃদ্ধি, এবং জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, শুধু স্বাস্থ্য বিভাগ নয়, সরকার এবং স্থানীয় প্রশাসনও দায়িত্বশীলভাবে অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং নগরায়ণ পরিকল্পনার মাধ্যমে মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য নতুন উদ্যোগ নিতে পারে। এই ধরনের সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণে না পারলে, দেশের নাগরিকরা অবিরতভাবে ডেঙ্গুর মতো মহামারির ঝুঁকিতে থাকবেন।
