সম্পাদকীয়

সাইবার হামলার আশঙ্কা: অধিক সতর্ক হতে হবে

দেশে আবারও ‘বড় ধরনের’ সাইবার হামলার আশঙ্কা। দেশের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো (সিআইআই), ব্যাংক, আর্থিক খাত, স্বাস্থ্যসেবা, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সম্ভাব্য সাইবার হামলার ঝুঁকিতে থাকার কথা জানিয়ে সতর্কতা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ হামলা মোকাবিলায় সব তফশিলি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারদের ১৪টি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশনস টেকনোলজি (আইসিটি) বিভাগ চিঠি দিয়ে সতর্কতা জারির পাশাপাশি এসব নির্দেশনা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ঝুঁকি মোকাবিলায় সার্ভার ও ডেটাবেইস নিয়মিত হালনাগাদ, অপ্রয়োজনীয় পোর্ট বন্ধ করা, অনুমতিভিত্তিক এক্সেস নিশ্চিতকরণ এবং গুরুত্ব অনুযায়ী নিয়মিত ব্যাকআপ রাখার পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তাছাড়া, ডেটা স্থানান্তর, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে এনক্রিপশন বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সব সিস্টেমে মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (এমএফএ) চালু করতে বলা হয়েছে। নিরাপত্তা নজরদারির জন্য আধুনিক সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যারসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্র ব্যবহারে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ‘এন্ডপয়েন্ট ডিটেকশন অ্যান্ড রেসপন্স (ইডিআর), অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার হালনাগাদ এবং কার্যকারিতা নিশ্চিত করার নির্দেশও রয়েছে। বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে আইসিটির ব্যবহার শুরু হয়েছিল ১৯৯০ সালের পর থেকে তবে ২০০০ সালের পরবর্তী সময়ে আইসিটির ব্যবহার বাড়তে শুরু করে সেই অবস্থা থেকে আইসিটি এখন ব্যাংক খাতের জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। এখন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার ছাড়া ব্যাংকিং কর্মকা- এক মুহূর্তের জন্য পরিচালনার কথা ভাবা প্রায় অসম্ভব। ডিজিটাল বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উজ্জ্বল প্রকাশ আমাদের ব্যাংকিং খাত। এখানে যাবতীয় লেনদেন হিসাব-নিকাশ, অর্থ স্থানান্তরসহ সব কাজই এখন ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমেই সম্পন্ন হচ্ছে। মাত্র কিছু সময়ের জন্য যদি অনাকাক্সিক্ষত কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতির কারণে এই প্রযুক্তি ব্যবহারে বিঘœ ঘটে তাহলে একটি ব্যাংকের চরম বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। এ অবস্থায় সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি, কঠোর আইন ও এর প্রয়োগের মাধ্যমেই কেবল সাইবার অপরাধীদের অপতৎপরতা নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব। আমরা মনে করি, ব্যাংক ও আর্থিক খাতসহ সব ধরনের সাইবার অপরাধ দমনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিকল্প নেই। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ভালো দিকের পাশাপাশি অনেক মন্দ দিকও রয়েছে। মন্দ দিকগুলো মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকসহ রাষ্ট্রের বড় বড় প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের সততা, নৈতিকতা ও মূল্যবোধ বজায় রাখার বিষয়টিও জরুরি। তা না হলে যে কোনো সময় বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা থেকে যাবে-যা মোটেই প্রত্যাশিত নয়।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button