ট্রমা-পরবর্তী মানসিক স্বাস্থ্যে জরুরি নজরদারি

জুলাই আন্দোলনের ঘটনায় আহতদের মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির (বিএমইউ) গবেষণা নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, আহতদের মধ্যে ৮২ দশমিক ৫ শতাংশ বিষণœতায় ভুগছেন এবং ৬৪ শতাংশ তীব্র আঘাত পরবর্তী মানসিক চাপে (পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার) আক্রান্ত। অর্থাৎ, সড়ক বা শারীরিক চিকিৎসার বাইরেও গভীর মানসিক ক্ষত তাদের জীবনে ছাপ রেখে যাচ্ছে। একইভাবে, মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনার ঘটনায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক ও অভিভাবকরাও মানসিক সংকটে রয়েছেন। চিকিৎসকরা বলছেন, প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত ও দ্রুত মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা দেওয়া গেলে দীর্ঘমেয়াদি মানসিক রোগ ও আচরণগত সমস্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব। বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্য এখনো সামাজিক ও নীতিগত আলোচনায় প্রান্তিক অবস্থানে। অথচ সংকটের মাত্রা প্রমাণ করছে, এটি উপেক্ষা করার মতো নয়। শারীরিক আঘাতের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা যেমন জরুরি, মানসিক আঘাতও তেমনই সমান গুরুত্ব দাবি করে। এ জন্য মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা প্রমাণভিত্তিক থেরাপি, কাউন্সেলিং, সাইকোলজিক্যাল ফাস্ট এইড এবং প্রয়োজনে ওষুধ প্রয়োগের ওপর জোর দিচ্ছেন। শুধু চিকিৎসক নয়- পরিবার, শিক্ষক, কমিউনিটি সবার ভূমিকা এখানে সমান গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর বা তরুণের আচরণে অস্বাভাবিকতা চোখে পড়লেই দ্রুত বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া দরকার। একইসঙ্গে, ঢাকা ও ঢাকার বাইরে সর্বজনীন মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি ও জুলাই আন্দোলনের মতো ঘটনার শিকারদের পাশে দাঁড়ানো কেবল চিকিৎসার বিষয় নয়; এটি রাষ্ট্র ও সমাজের মানবিক দায়িত্ব। ট্রমা-পরবর্তী মানসিক স্বাস্থ্যসেবা একটি সমন্বিত নীতি হিসেবে বাস্তবায়িত না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মানসিক সুস্থতা বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়বে।