সাভার থেকে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণের সূচনা

সাভার উপজেলাকে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ ঘোষণা করে সরকার একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সাভারের বাতাসে দূষণের মাত্রা বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মানদ-ের তুলনায় প্রায় ২০ গুণ বেশি। বছরে ১৬০ দিনের বেশি সময় এ অঞ্চলের বায়ুদূষণ মারাত্মক পর্যায়ে থাকে। ফলে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে। এই ঘোষণার ফলে আগামী সেপ্টেম্বর থেকে সাভারে টানেল ও হাইব্রিড হফম্যান কিলন ছাড়া সব ধরনের ইটভাটায় ইট পোড়ানো নিষিদ্ধ হবে। এতে বন্ধ হচ্ছে ১০৭টি ইটভাটা, যা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক অগ্রগতি। কালো ধোঁয়া বা ব্ল্যাক কার্বন-যার মূল উৎস ইটভাটা-মানুষের শরীরে রক্তের মাধ্যমে প্রবেশ করে নানা রোগ সৃষ্টি করছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এটি কেবল চিকিৎসা ব্যয় বাড়াচ্ছে না, সরাসরি মৃত্যুঝুঁকিও তৈরি করছে। বাংলাদেশ বিশে^র সবচেয়ে দূষিত দেশের তালিকায় বহু বছর ধরে শীর্ষে রয়েছে। রাজধানী ঢাকার বাতাসের মান সূচক প্রায়ই ৩০০-৪০০-এর মধ্যে ওঠানামা করে, যা আন্তর্জাতিক মানদ-ে বিপজ্জনক হিসেবে গণ্য হয়। সাভার ও ধামরাই অঞ্চলের দূষিত বাতাস মৌসুমি বাতাসের প্রবাহে ঢাকায় প্রবেশ করে রাজধানীবাসীর ওপর ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। তবে কেবল সাভারেই সীমিত না থেকে গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ আশপাশের শিল্পঘন এলাকাগুলোতেও একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে। পরিপত্রে দেওয়া শর্ত ও বিধিনিষেধ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কঠোর নজরদারি জরুরি। কেবল ঘোষণায় সীমাবদ্ধ থাকলে এর সুফল আসবে না। দূষণ কমাতে সমন্বিত উদ্যোগ দরকার। ইটভাটা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি শিল্পবর্জ্য ব্যবস্থাপনা, খোলা জায়গায় বর্জ্য পোড়ানো বন্ধ, পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার এবং নগর পরিকল্পনায় সবুজায়নের উদ্যোগ জোরদার করতে হবে। সাভার থেকে শুরু হলেও এটি একটি বড় জাতীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রথম ধাপ। ঘোষণা কার্যকর বাস্তবায়ন হলে তা কেবল সাভারের নয়, রাজধানী ঢাকাসহ পুরো দেশের জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এখনই সময় ঘোষণা নয়, বাস্তবায়নে কঠোরতা দেখানোর।