সম্পাদকীয়

ঢাকাবাসীর ভোগান্তির শেষ কোথায়?

শৃঙ্খলাহীন সড়ক, যানজট

রাজধানীর সড়কগুলোতে শৃঙ্খলা নেই বললেই চলে। সরু সড়ক, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দাপট, অতিরিক্ত মোটরসাইকেল—সব মিলিয়ে গণপরিবহন ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা বাড়ছে। তদুপরি বাসগুলো যেন এক মূর্তিমান আতঙ্ক। এগুলো রাস্তার কোনো নিয়ম-কানুনই মানে না। প্রতিযোগিতা করে বা বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। রাস্তার মাঝখানে দাঁড় করিয়ে যাত্রী তোলা, যেখানে-সেখানে দাঁড় করিয়ে রাখায় বাসগুলো যানজটেরও অন্যতম কারণ। তা ছাড়া বহু পুরনো ও লক্কড়ঝক্কড় বাসগুলো ঢাকার পরিবেশদূষণেও বড় ভূমিকা রাখছে। ঢাকার গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে এক যুগেরও বেশি সময় আগে ‘বাস রুট রেশনালাইজেশন’ প্রকল্প যাত্রা শুরু করেছিল, কিন্তু এখনো তার বাস্তবায়নে গতি আসেনি। ফলে রাজধানীতে পরিকল্পিত গণপরিবহনের অভাবে মানুষের দুর্ভোগ ক্রমেই বাড়ছে। জানা যায়, গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পটি একের পর এক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে। নির্ধারিত স্টপেজ, মার্কিং, কাউন্টার- প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রকল্পটি বাধার মুখে পড়েছে নানা কারণে। পরিকল্পনার ঘাটতি, রাজনৈতিক প্রভাব, মালিক ও শ্রমিকদের অনীহা এবং প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাবে কাঙ্ক্ষিত সফলতাও আসেনি। মালিক সমিতির চালু করা গোলাপি বাস সার্ভিসও দাঁড়াতে পারেনি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সুষ্ঠু পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে জরুরি ভিত্তিতে কম্পানিভিত্তিক পরিবহন পরিচালনা, নির্ধারিত স্টপেজ ও রুটে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতেই হবে। জানা যায়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও প্রকল্পটি এগিয়ে নিতে জোর প্রচেষ্টা চালায় ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ), কিন্তু খুব একটা সফল হয়নি। ডিটিসিএ জানায়, বাস রুট রেশনালাইজেশন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে ৯টি ক্লাস্টার (৯টি ভিন্ন ভিন্ন রঙের), ২২টি কম্পানি ও ৪২টি রুটের প্রস্তাব দিয়েছিল ডিটিসিএ। এর মাঝে আরবান ক্লাস্টার (নগর পরিবহন) ছয়টি (রুট ৩৪টি) ও সাব-আরবান (শহরতলি পরিবহন) ক্লাস্টার তিনটি (রুট আটটি)। এই প্রস্তাব ২০২০ সালের ১২ আগস্ট কমিটির ১৪তম সভায় অনুমোদিত হয়। ২৩তম সভার সিদ্ধান্তে ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তিনটি রুটে বাস চালু করলেও এখন সেগুলোও বন্ধ। সর্বশেষ চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি গ্রিন ক্লাস্টারের জন্য আটটি রুটের মধ্যে ছয়টি চালুর সিদ্ধান্ত হয়, কিন্তু চালু হলে সেটিও ভেস্তে যায়। এখন কেবল গুলিস্তান-নারায়ণগঞ্জ রুটে সীমিত আকারে কিছু বাস চলাচল করছে। পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের অধ্যাপক কাজী সাইফুন নেওয়াজ বলেন, বাস রুট রেশনালাইজেশন প্রকল্প ভালোভাবেই শুরু হয়েছিল, কিন্তু হঠাৎ গোলাপি বাস নামানোর মতো ঘটনায় প্রকল্পটি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, এখন প্রকল্প আর এগোচ্ছে না। কম্পানি না পাওয়ার দায় সরকারেরও আছে। মালিকদের বোঝাতে হবে তাঁদের লাভ কোথায়। আর এক রুটে একাধিক কম্পানি চললে নতুন কেউ ইনভেস্টও করবে না। কারণ প্রতিযোগিতায় তারা টিকবে না। আমরা আশা করি, ঢাকার রাস্তায় শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং নাগরিকদের দুর্ভোগ কমাতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। বাস রুট রেশনালাইজেশন প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পথে যেসব বাধা রয়েছে, সেগুলো দূর করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button