সম্পাদকীয়

ভোজ্যতেল নির্ধারিত দামেই বিক্রি করতে হবে

বাজারে ভোজ্যতেল বিক্রির ক্ষেত্রে নির্ধারিত পরিমাপ ও মূল্য মানা হচ্ছে না—এমন অভিযোগ উঠেছে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী তেল লিটারে বিক্রি হওয়ার কথা থাকলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কেজি হিসেবে বিক্রি হচ্ছে। একই সঙ্গে পাম অয়েল সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে লিটারপ্রতি ৫ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের (বিটিটিসি) স্থানীয় বাজারদর বিষয়ক এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ৩ আগস্ট বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে পরামর্শ করে তেলের দাম নির্ধারণ করে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যসোসিয়েশন। সেখানে লিটারে দাম নির্ধারণ করা হলেও বাজারে খোলা সয়াবিন ও পাম তেল বিক্রি হচ্ছে কেজিতে। যদিও পণ্য পরিবেশক নিয়োগ আদেশে তরল পদার্থ পরিমাপে লিটারে হিসাব করার কথা উল্লেখ আছে। কিন্তু বাজারজাতকরণে তা মানা হচ্ছে না। তা ছাড়া খোলা পাম তেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও বাজারে নির্ধারিত দামের চেয়ে লিটারে ৫ টাকা বেশি রাখা হচ্ছে। বাড়তি এই দাম নিরুৎসাহিত করা প্রয়োজন বলে মনে করছে কমিশন। ভোক্তা অধিকার আন্দোলনের কর্মীরা বলছেন, সরকার দাম বেঁধে দেয়ার পরও যদি বাজারে কার্যকর না হয় তবে সাধারণ মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। বিশেষ করে নি¤œ আয়ের মানুষ সামান্য দাম বাড়লেই ভোগান্তিতে পড়েন। অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামার কারণে সব সময় সরকারের নির্ধারিত দাম মানা সম্ভব হয় না। তবে ভোক্তা সংগঠনগুলোর অভিযোগ, ব্যবসায়ীরা ইচ্ছাকৃতভাবে অজুহাত দেখিয়ে বাড়তি মুনাফা করছেন। তেলের দাম বাড়ার আশায় তেল মজুত করে রাখছেন অনেক ব্যবসায়ী। কিছু দিন ধরে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। ব্যবসায়ী, উৎপাদনকারী ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানকে পরস্পরকে দায়ী করছেন। তারা বলছেন, কোম্পানি সরবরাহ কমিয়ে দিচ্ছে। তেলের দাম আরও বাড়বে সম্ভাবনায় বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেন তারা। আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের যে দাম বেড়েছে বা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ প্রভৃতির কারণে দাম বাড়লে তার প্রভাব দেশের বাজারে হয়তো পড়ছে। কিন্তু এখন তেল নিয়ে যে অস্থিরতা চলছে, তা সরবরাহ শৃঙ্খলের কারসাজি বলেই প্রতীয়মান। ভোজ্যতেল আমদানিকারক বাজারজাতকারী প্রভাবশালী কিন্তু সরকারের চেয়ে শক্তিধর নয়। সরকার কঠোরভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণ করলে অসাধু ব্যবসায়ীরা বাজারে দাপট দেখাতে পারবে না। সরকারের উচিত হবে নির্ধারিত দামে ভোজ্যতেল বিক্রি নিশ্চিত করা। সেইসঙ্গে কৃত্রিম সংকটে যাদেরই সংশ্লেষ রয়েছে, তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button