আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি

মবে মৃত্যু ১৬৮, সহিংসতায় ১৩৩
গত এক বছরে অর্থাৎ বিগত ২০২৫ সালে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)-এর প্রতিবেদনে উন্মোচিত চিত্রটি আমাদের সমাজের জন্য এক জোরালো সতর্কবার্তা। প্রতিবেদনে জানা যায়, মব ও গণপিটুনিতে ১৬৮ জন নিহত, রাজনৈতিক সহিংসতায় ১৩৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন, সীমান্তে অন্তত ৩০ জন নিহত এবং নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতার সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে- এসব কেবল পরিসংখ্যান নয়; প্রতিটি সংখ্যা একটি ভাঙা পরিবার, ভাঙা জীবন ও ভাঙা সামাজিক বন্ধনের সাক্ষ্য। মব সহিংসতা ও গুজব দ্রুত ছড়িয়ে পড়া, স্থানীয় আধিপত্য ও আইনশৃঙ্খলার শিথিলতা মিলিয়ে প্রাণঘাতী রূপ নিচ্ছে; রাজনৈতিক প্রতিশোধপরায়ণতা ও মামলায় নামজারি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে; সীমান্তে হত্যাকা- ও পুশব্যাক কূটনৈতিক ইস্যু ছাড়িয়ে মানবিক সংকটে পরিণত হয়েছে; সাংবাদিক নির্যাতন ও মতপ্রকাশে বাধা তথ্যপ্রবাহ ও জবাবদিহিতা দুর্বল করে দিচ্ছে; আর নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন ও পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা সমাজের নৈতিক অবক্ষয়ের প্রতিফলন। এই সংকট মোকাবিলায় প্রথম শর্ত হলো স্বচ্ছ ও স্বাধীন তদন্ত- বিচারবহির্ভূত হত্যা, হেফাজতে মৃত্যু ও সীমান্তের ঘটনার প্রতিটি কেসে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সীমান্তরক্ষী ইউনিটে মানবাধিকার প্রশিক্ষণ জোরদার করে ত্রুটিপূর্ণ আচরণ রোধ করতে হবে। তৃতীয়ত, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় কার্যকর প্রটোকল ও আইনি সুরক্ষা প্রয়োজন। চতুর্থত, নারী ও শিশুর জন্য দ্রুত বিচার, মানসিক ও চিকিৎসাসেবা এবং পুনর্বাসন ব্যবস্থা অবিলম্বে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় নেতৃত্ব, নাগরিক সমাজ ও ধর্মীয় ও শিক্ষাব্যবস্থা সহ সকল স্তরের অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসই পরিবর্তন সম্ভব নয়। প্রতিবেদনকে কেবল তথ্যের ভা-ার হিসেবে রেখে দিলে চলবে না; এটিকে পরিবর্তনের কর্মসূচিতে রূপান্তর করতে হবে- স্বচ্ছতা, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করে আমরা সমাজকে পুনর্গঠন করতে পারি। এখনই সময় সক্রিয় পদক্ষেপ নেওয়ার; নইলে ক্ষত সারানো কঠিন হয়ে উঠবে। আমরা আশা করি সরকার, বিষয়টি গুরুত্ব নিয়ে দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
