সম্পাদকীয়

সংকট কাটাতে দরকার নির্বাচিত সরকার

সন্ধিক্ষণে দেশের অর্থনীতি

বাংলাদেশের অর্থনীতি আজ এক গভীর অস্থিরতার মধ্যে দাঁড়িয়ে। করোনা মহামারি ও বৈশ্বিক যুদ্ধ-অবরোধের অভিঘাত কাটিয়ে ওঠার আগেই দেশ নতুন সংকটে নিমজ্জিত হয়েছে। মূল্যস্ফীতি অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে, আর ব্যবসা-বাণিজ্য যেন খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে টালমাটাল।রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আইন-শৃঙ্খলার দুরবস্থা ব্যবসায়িক আস্থা নষ্ট করছে। ব্যাংকঋণের সুদহার ১৪ থেকে ১৬ শতাংশে পৌঁছেছে, যা নতুন উদ্যোক্তা ও এসএমই খাতের জন্য বড় বাধা। গ্যাস-বিদ্যুতের ঘাটতি উৎপাদন ব্যাহত করছে, ফলে শিল্প ও সেবা খাত স্থবির হয়ে পড়েছে। ভোক্তার চাহিদা কমে যাওয়ায় বিক্রি ২০ থেকে ৩০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে মাত্র ২ শতাংশে। কৃষি, শিল্প ও সেবা- সব খাতেই প্রবৃদ্ধি আশঙ্কাজনকভাবে কম। মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির এলসি খোলার হার ২০ শতাংশের বেশি কমে গেছে, যা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ স্থবিরতার ইঙ্গিত।দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত এক বছরে ব্যবসা পরিচালনার খরচ বেড়েছে প্রায় ৩৫ শতাংশ। কিন্তু সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা না বাড়ায় বিক্রি কমেছে। তারা অভিযোগ করছেন, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি কাঠামোগত সমস্যায় তারা জর্জরিত। ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ, তারল্য সংকট এবং সুশাসনের ঘাটতি ব্যবসায়িক আস্থা নষ্ট করছে।অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করছেন, ইতিবাচক ঝুড়ির চেয়ে নেতিবাচক ঝুড়ি এখন ভারী। শিল্পায়নের স্বপ্ন ভেঙে গেলে শুধু কর্মসংস্থানই নয়, দেশের আত্মমর্যাদাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।এই সংকটময় সময়ে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ তাকিয়ে আছেন আসন্ন নির্বাচনের দিকে। আশা করা হচ্ছে, নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরবে, বিনিয়োগে গতি আসবে, ব্যবসা-বাণিজ্য স্বাভাবিক হবে।বাংলাদেশের অর্থনীতি আজ এক সন্ধিক্ষণে। সংকট কাটিয়ে উঠতে হলে প্রয়োজন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সুশাসন ও বিনিয়োগবান্ধব নীতি। নির্বাচিত সরকারের প্রতি তাই প্রত্যাশা- অর্থনীতিকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তুলে নতুন আস্থার পথে নিয়ে যাওয়া।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button