অনিয়ম রোধে কঠোর পদক্ষেপ জরুরি

জাতীয় সংসদ নির্বাচন
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে মানুষের প্রত্যাশা ছিল একটি স্বচ্ছ, অবাধ ও উৎসবমুখর ভোট। গণ-অভ্যুত্থানের পর এই নির্বাচনকে জনগণ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছিল। কিন্তু নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন, পোস্টাল ব্যালট বিতরণে বিশৃঙ্খলা এবং ভোট কেনাবেচার অভিযোগ জনমনে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য পোস্টাল ভোট চালু করা নিঃসন্দেহে একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ, তবে এর বাস্তবায়নে যে অনিয়ম ও জালিয়াতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, তা নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিগুলোতে দেখা যাচ্ছে, বিদেশে বাসাবাড়িতে শত শত পোস্টাল ব্যালট জমা হচ্ছে, কোথাও আগেভাগেই ভোট প্রদান শুরু হয়ে গেছে, আবার কোথাও একজনের নামে অন্যজন ব্যালট গ্রহণ করছে। এসব অভিযোগ শুধু একটি দলের নয়; বিএনপি ও জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলই নির্বাচন কমিশনের নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করছে। তারা বলছে, আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগের স্তূপ জমে আছে, কিন্তু কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। নির্বাচন কমিশন অবশ্য দাবি করছে, অভিযোগ ব্যবস্থাপনার জন্য একটি সিস্টেম চালু আছে এবং অনেককে শোকজ ও জরিমানা করা হয়েছে। কিন্তু জনগণের আস্থা অর্জন করতে হলে শুধু প্রশাসনিক ব্যাখ্যা যথেষ্ট নয়; দৃশ্যমান ও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পোস্টাল ভোটের মতো জটিল পদ্ধতি চালু করার আগে সীমিত পরিসরে পরীক্ষামূলক প্রকল্প নেওয়া উচিত ছিল। অনেক দেশ আইন করেও এই পদ্ধতি বাস্তবায়ন করতে পারেনি, আবার কেউ কেউ চালু করেও বন্ধ করে দিয়েছে। বাংলাদেশে একসঙ্গে সব দেশে এটি চালু করার ফলে অনিয়মের ঝুঁকি বেড়েছে। তাই প্রতিটি ধাপে সতর্কতা, স্বচ্ছতা এবং আন্তর্জাতিক মানদ- অনুসরণ করা জরুরি। নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্যরা বলছেন, প্রবাসী ভোটারদের জন্য পাইলট প্রকল্প নেওয়া হলে এ ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়ানো যেত।নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগও কম নয়। রাজনৈতিক নেতাদের উসকানিমূলক বক্তব্য, প্রটোকল ও নিরাপত্তায় বৈষম্য, প্রচারণায় অনিয়ম- সবই ভোটারদের আস্থা নষ্ট করছে। অথচ গণতন্ত্রের সৌন্দর্য প্রতিদ্বন্দ্বীতায়, প্রতিহিংসায় নয়। জনগণ চেয়েছিল একটি বিশ্বাসযোগ্য প্রক্রিয়া, যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বীতা হবে নীতির ভিত্তিতে, প্রতিহিংসা নয়। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, প্রতিদ্বন্দ্বীতা অনেক সময় ব্যক্তিগত আক্রমণ ও প্রতিহিংসায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে। এতে ভোটাররা বিভ্রান্ত হচ্ছেন, গণতন্ত্রের সংস্কৃতি দুর্বল হচ্ছে।
