সম্পাদকীয়

প্রশাসনিক ব্যর্থতার দায় এড়ানো যাবে না

জলাতঙ্ক প্রতিরোধে টিকা সংকট

বাংলাদেশে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকার সংকট এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এআরভি ও আরআইজি-এই দুটি জীবন রক্ষাকারী টিকা ছাড়া জলাতঙ্ক প্রতিরোধ সম্ভব নয়। অথচ সরকারি হাসপাতালগুলোতে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে আরআইজি টিকার সরবরাহ বন্ধ, আর এআরভি টিকার ক্ষেত্রেও বহু জেলায় হাহাকার চলছে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১,৪০০ মানুষ প্রাণীর আক্রমণের শিকার হন। বছরে এই সংখ্যা দাঁড়ায় সোয়া পাঁচ লাখ। তাদের জীবনের সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব, কিন্তু টিকার অভাব সেই দায়িত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। জলাতঙ্ক এমন এক মারণব্যাধি, যার লক্ষণ প্রকাশ পেলেই মৃত্যু প্রায় অনিবার্য। তবে সময়মতো টিকা গ্রহণ করলে শতভাগ প্রতিরোধ সম্ভব। তাই টিকার অভাব কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই সংকটের মূলে রয়েছে প্রশাসনিক উদাসীনতা ও অদূরদর্শিতা। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো স্বীকার করেছে যে কৌশলগত পরিকল্পনা বা অপারেশনাল প্ল্যান না থাকার কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে। একটি জরুরি জীবন রক্ষাকারী ভ্যাকসিনের সংগ্রহপ্রক্রিয়া আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় থমকে যাওয়া জনস্বাস্থ্যের প্রতি চরম অবহেলার পরিচায়ক। শুধু মানবদেহে টিকা নয়, জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণের প্রধান অস্ত্র ম্যাস ডগ ভ্যাকসিনেশন বা কুকুরের গণটিকাদান কর্মসূচিও দুই বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। অথচ এই কর্মসূচি চালু থাকায় ২০১০ সালের আগে বছরে দুই হাজারের বেশি মৃত্যুর সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছিল মাত্র ৫০-এ। এখন টিকার অভাবে সেই সাফল্য ধুলায় মিশে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদি মৃত্যুর সংখ্যা আবারও বাড়তে শুরু করে, তবে এর দায়ভার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এড়াতে পারবে না। জনস্বাস্থ্যের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে দীর্ঘসূত্রতা বা অবহেলার কোনো সুযোগ নেই। অবিলম্বে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জরুরি ভিত্তিতে টিকা সংগ্রহ করতে হবে। একই সঙ্গে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে কুকুরের গণটিকাদান কর্মসূচি পুনরায় চালু করা জরুরি। মাঠ পর্যায়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ও চিকিৎসা-উভয় ক্ষেত্রেই স্থবিরতা দূর করতে হবে। জলাতঙ্ক প্রতিরোধে বাংলাদেশের অর্জন একসময় আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছিল। সেই অর্জন ধরে রাখতে হলে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় বহু বছরের সাফল্য হারিয়ে যাবে, আর হাজার হাজার মানুষের জীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে। জনস্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত সংকট সমাধান করাই সময়ের দাবি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button