সম্পাদকীয়

নীতি সংশোধন সময়ের দাবি

সংকটে বস্ত্রশিল্প

বাংলাদেশের বস্ত্রশিল্প আজ এক গুরুতর সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে আছে। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) ঘোষণা দিয়েছে, যদি সরকার অবিলম্বে সুতা আমদানি বন্ধ না করে, তবে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশের সব টেক্সটাইল মিল বন্ধ করে দেওয়া হবে। এই হুঁশিয়ারি নিছক চাপ সৃষ্টি নয়; বরং এটি দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের জন্য এক অশনি সংকেত।দেশীয় স্পিনিং মিলগুলো দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত সক্ষমতা নিয়ে উৎপাদন চালিয়ে আসছে। অথচ বিদেশি, বিশেষ করে ভারতীয় সুতা আমদানির সুযোগ দিয়ে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের অসম প্রতিযোগিতায় ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। বিটিএমএ নেতাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো সংকট সমাধানের পরিবর্তে দায় এড়ানোর খেলায় মেতে আছে। এর ফলে উদ্যোক্তারা বারবার সরকারের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও আশানুরূপ সাড়া পাচ্ছেন না।এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে। দেশীয় মিলগুলো বন্ধ হয়ে গেলে বিদেশি সুতার একচেটিয়া বাজার তৈরি হবে, যার মাশুল দিতে হবে পুরো তৈরি পোশাক খাতকে। তুলা আমদানিতে শুল্কের বোঝা এবং সুতার ক্ষেত্রে আমদানিকৃত সুবিধা- এই দ্বৈত নীতি দেশীয় শিল্প বিকাশের পথকে আরও কঠিন করে তুলছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট এবং ব্যাংক খাতের তারল্য সংকট, যা উদ্যোক্তাদের সক্ষমতাকে অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে।ভুলে গেলে চলবে না, দেশের জিডিপিতে বস্ত্রশিল্পের অবদান প্রায় ১৩ শতাংশ। এই খাতের বিপর্যয় মানে জাতীয় অর্থনীতিতে ধস এবং কয়েক লাখ শ্রমিকের বেকারত্ব। সরকার যখন ব্যাংক খাতের দুর্নীতির ক্ষতি পোষাতে হাজার হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে, তখন উৎপাদনশীল ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী বস্ত্র খাতের জন্য উদ্যোক্তাদের মাত্র এক বিলিয়ন ডলারের প্রণোদনা চাওয়া মোটেও অযৌক্তিক নয়।এখন সময় এসেছে দেশীয় শিল্পকে বিদেশি বাজারের ওপর নির্ভরশীল না করে স্বাবলম্বী করার। সুতা আমদানির নীতি সংশোধন করে স্থানীয় স্পিনিং মিলগুলোকে রক্ষা করা জরুরি। অন্যথায় দেশের তৈরি পোশাক খাত, যা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান উৎস, মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।আমাদের আহ্বান- সরকার অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিক। সুতা আমদানির নীতি পুনর্বিবেচনা করা হোক, দেশীয় উদ্যোক্তাদের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার সুযোগ দেওয়া হোক। বস্ত্রশিল্পকে বাঁচানো মানে শুধু একটি খাতকে রক্ষা করা নয়; এটি জাতীয় অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখা এবং লাখো শ্রমিকের জীবিকা সুরক্ষিত করার প্রতিশ্রুতি। এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে, কারণ দেরি হলে ক্ষতি আর পূরণ করা যাবে না।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button