সম্পাদকীয়

মোকাবেলায় পদক্ষেপ জরুরি

খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকি

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতার অন্যতম ভিত্তি হলো খাদ্য নিরাপত্তা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষিজমি হ্রাস এবং উৎপাদন ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি আমাদের খাদ্য ব্যবস্থাকে ক্রমশ ঝুঁকির মুখে ফেলছে। মৌসুমি বন্যা, খরা ও ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ সরাসরি কৃষি উৎপাদনে প্রভাব ফেলছে, যার ফলে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে শুধু উৎপাদন বাড়ানোই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন একটি সমন্বিত নীতি। কৃষকের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, সঠিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং বাজারে স্বচ্ছতা- সবকিছু মিলেই খাদ্য নিরাপত্তা গড়ে ওঠে। বাস্তবে দেখা যায়, কৃষকরা উৎপাদন খরচের তুলনায় ন্যায্য মূল্য পান না, আর ভোক্তারা বাজারে গিয়ে অতিরিক্ত দাম দিয়ে পণ্য কিনতে বাধ্য হন। এই বৈষম্য দূর করা জরুরি। সরকার কৃষি ভর্তুকি, সেচ সুবিধা ও বীজ উন্নয়নের মতো পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে এগুলো যথেষ্ট নয়। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দরকার, যেখানে কৃষিকে জলবায়ু সহনশীল করে তোলা হবে। ড্রোনভিত্তিক কৃষি পর্যবেক্ষণ, স্মার্ট সেচ ব্যবস্থা এবং উচ্চফলনশীল জাতের উন্নয়ন দ্রুত মাঠ পর্যায়ে পৌঁছে দিতে হবে। একইসঙ্গে খাদ্য সংরক্ষণ ও বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে হবে, যাতে মধ্যস্বত্বভোগীরা বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে না পারে। খাদ্য নিরাপত্তা মানে শুধু পেট ভরে খাওয়া নয়; এটি একটি দেশের সামাজিক স্থিতি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভিত্তি। পর্যাপ্ত ও সাশ্রয়ী খাদ্য না পেলে দারিদ্র্য বাড়বে, সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হবে এবং প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হবে। তাই খাদ্য নিরাপত্তাকে জাতীয় অগ্রাধিকারে পরিণত করা ছাড়া বিকল্প নেই। আমাদের আহ্বান- সরকার, কৃষক, উদ্যোক্তা ও ভোক্তা সবাইকে নিয়ে একটি সমন্বিত উদ্যোগ গড়ে তোলা হোক। কৃষক যেন উৎপাদনে উৎসাহ পান, ভোক্তা যেন ন্যায্য দামে খাদ্য পান, আর দেশ যেন খাদ্যে স্বাবলম্বী হতে পারে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্থিতিশীল ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলা।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button