গণতন্ত্রের উত্তরণ হোক শান্তিপূর্ণ

অর্থনীতি পাক স্থিতিশীলতা
বাংলাদেশ ২০২৬ সালের শুরুতে এক জটিল বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে। ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে, একই সময়ে অর্থনীতির নাজুক অবস্থা জনগণের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলছে। এই দ্বৈত সংকট শুধু রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকেই নয়, সামাজিক আস্থা ও উন্নয়নকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে। নির্বাচন গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় উৎসব। কিন্তু অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, নির্বাচনী প্রচারণা প্রায়ই উত্তেজনা, সংঘর্ষ ও সহিংসতায় কলঙ্কিত হয়। এ ধরনের পরিস্থিতি শুধু ভোটারদের অংশগ্রহণ কমায় না, বরং গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা দুর্বল করে। রাজনৈতিক দলগুলোকে মনে রাখতে হবে, জনগণ তাদের কাছ থেকে উন্নয়ন, নীতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা শুনতে চায়। ব্যক্তিগত আক্রমণ, অপপ্রচার বা সহিংসতা জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করে না। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হলো একটি অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা। আচরণবিধি ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে সব দল সমান সুযোগ পায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিরপেক্ষ থাকতে হবে, যাতে ভোটাররা নিরাপদে ভোট দিতে পারেন। গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজকেও সচেতন থাকতে হবে, যাতে সহিংসতা নয়, নীতি ও কর্মসূচি আলোচনায় আসে। অন্যদিকে অর্থনীতির চিত্রও উদ্বেগজনক। মুদ্রাস্ফীতি কিছুটা কমলেও তা এসেছে আমদানি ও বিনিয়োগ সংকোচনের মাধ্যমে, প্রকৃত অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার হয়নি। খাদ্য সরবরাহে সংকট, ব্যাংক খাতের অনিয়ম, জ্বালানি রূপান্তরের চাপ এবং বৈদেশিক খাতের দুর্বলতা অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মুদ্রানীতি কঠোর করা ও বিনিয়োগ কমানো স্বল্পমেয়াদে স্থিতিশীলতা আনলেও দীর্ঘমেয়াদে কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যুব বেকারত্ব ও বৈষম্য বাড়ছে, যা সামাজিক অস্থিরতার ঝুঁকি তৈরি করছে। এই পরিস্থিতিতে দ্বিমুখী পদক্ষেপ জরুরি। প্রথমত, নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ ও কঠোর ভূমিকা নিতে হবে, যাতে ভোটাররা আস্থা ফিরে পান। দ্বিতীয়ত, সরকারকে অবিলম্বে অর্থনৈতিক সংস্কার শুরু করতে হবে- ব্যাংক খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করা। বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও অর্থনীতি আজ একই সঙ্গে পরীক্ষার মুখে। এই পরীক্ষায় ব্যর্থতা মানে জনগণের আস্থা হারানো, আর সফলতা মানে একটি স্থিতিশীল ও উন্নয়নমুখী রাষ্ট্র। তাই রাজনৈতিক দল, সরকার ও নির্বাচন কমিশন- সব পক্ষকে দায়িত্বশীল হতে হবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সময়ের দাবি।
