সম্পাদকীয়

শান্তিপূর্ণ অংশগ্রহণই গণতন্ত্রের শক্তি

দোরগোড়ায় নির্বাচন ও গণভোট

আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নানা ঘটনা পরিক্রমায় এ নির্বাচনটি যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনই আরেকটি বিশেষ দিক হলো এবারের নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে গণভোট। নির্বাচনের প্রাক্কালে সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা হলো- নির্বাচন যেন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো জনগণের ভোটাধিকার, আর সেই অধিকার প্রয়োগের পরিবেশ যদি সহিংসতা, ভয়ভীতি বা অস্থিরতায় ভরে যায়, তবে গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা ক্ষুণœ হয়। বাংলাদেশের অতীত নির্বাচনের অভিজ্ঞতা আমাদের মনে করিয়ে দেয় কেন শান্তিপূর্ণ নির্বাচন এত জরুরি। ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন কার্যত একতরফা হয়ে গিয়েছিল, যেখানে সহিংসতায় বহু প্রাণহানি ঘটে এবং ভোটার উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত কম। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের দিন থেকেই নানা অনিয়ম, কেন্দ্র দখল, সংঘর্ষ ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। এমনকি স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতেও প্রায়ই সহিংসতা, প্রাণহানি ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের হেনস্তার ঘটনা ঘটেছে। এসব তিক্ত অভিজ্ঞতা জনগণের মনে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা দুর্বল করেছে। এবার সেই অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি। নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক সমাজ- সবার দায়িত্ব হলো ভোটারদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা। শান্তিপূর্ণ নির্বাচন মানে শুধু সংঘাতহীন ভোটগ্রহণ নয়, বরং প্রতিটি নাগরিকের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ। নারী, তরুণ, সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের নিরাপত্তা দিতে হবে, যাতে তারা নিরপেক্ষভাবে পরিস্থিতি তুলে ধরতে পারেন। রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে প্রতিহিংসায় রূপ না দেওয়া। জনগণের রায়কে সম্মান করা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করা তাদের দায়িত্ব। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিরপেক্ষ থাকতে হবে, যাতে ভোটাররা আস্থা নিয়ে কেন্দ্রে যেতে পারেন। আগামীকালের নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হলে তা শুধু একটি দিনের সাফল্য হবে না, বরং বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যতের জন্য একটি নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। জনগণের আস্থা ফিরবে, রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদলাবে, আর রাষ্ট্রের প্রতি বিশ্বাস আরও দৃঢ় হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button