সম্পাদকীয়

দ্বিধাহীন কূটনৈতিক পদক্ষেপ

রোহিঙ্গা সংকটে জরুরি

বাংলাদেশে রোহিঙ্গা সংকট নতুন নয়। জনবহুল দেশের ঘাড়ে অতিরিক্ত ১২–১৩ লাখ রোহিঙ্গার ভার বহন করা নিঃসন্দেহে এক বড় সমস্যা। কিন্তু হতাশার বিষয় হলো, তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে ফেরানোর ব্যাপারে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তা আলোর মুখ দেখেনি। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ২০২৫ সালের মার্চে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনে গিয়ে বলেছিলেন, আগামী ঈদ তারা নিজ দেশে গিয়েই করতে পারবে। সেই ঘোষণার প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেছে, কিন্তু একজন রোহিঙ্গাও ফেরত যায়নি। বরং নতুন করে আরও এক লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এখন উখিয়া-টেকনাফ এলাকায় রোহিঙ্গাদের স্থায়ী আবাসনের চিন্তা স্থানীয় জনগণের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এটি অযৌক্তিক নয়, কারণ রোহিঙ্গাদের দীর্ঘস্থায়ী অবস্থান স্থানীয় অর্থনীতি, সমাজ ও আইনশৃঙ্খলার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। ইতিমধ্যে ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে তারা নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। যৌথ বাহিনীর অভিযানে হাজারো রোহিঙ্গা আটক হয়েছে, যারা স্থানীয়দের কাছ থেকে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করছিল। বাড়ির মালিকদেরও জরিমানা করা হয়েছে। কিন্তু এসব পদক্ষেপ সীমিত পর্যায়ের, সংকটের গভীরতা মোকাবিলায় যথেষ্ট নয়। আরও উদ্বেগজনক হলো সরকারের কথায় ও কাজে অসঙ্গতি। একদিকে বলা হচ্ছে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরানো হবে, অন্যদিকে সৌদি আরবে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে সংকট আরও জটিল হয়ে উঠছে। রোহিঙ্গা সংকট শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, এটি একটি আন্তর্জাতিক মানবিক ও কূটনৈতিক সমস্যা। নতুন অনুপ্রবেশ শতভাগ বন্ধ করতে হবে, ক্যাম্পের বাইরে তাদের অবাধ চলাচল নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে এবং একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মহলের হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে। মিয়ানমারকে চাপ দিতে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শক্তির সঙ্গে সমন্বিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো ছাড়া এই সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। বাংলাদেশ ইতিমধ্যে মানবিক দায়িত্ব পালন করেছে। এখন সময় এসেছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সক্রিয় করার। সরকারকে দ্বিধাহীনভাবে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করতে হবে। অন্যথায় রোহিঙ্গা সংকট শুধু সীমান্ত এলাকায় নয়, পুরো দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button