সম্পাদকীয়

ঝুঁকির কথাও মাথায় রাখতে হবে

রেসিপ্রোকাল ট্রেড চুক্তি

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত রেসিপ্রোকাল ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্টকে সরকার ইতিবাচকভাবে তুলে ধরেছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই চুক্তির সম্ভাবনা যেমন আছে, তেমনি রয়েছে গুরুতর ঝুঁকিও। চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি পণ্যে আরোপিত ২০ শতাংশ রেসিপ্রোকাল শুল্ক ১ শতাংশ কমিয়ে ১৯ শতাংশ করেছে। এটিকে বড় অগ্রগতি বলা যায় না। তবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হলো- নির্দিষ্ট শর্ত মানলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক মার্কিন বাজারে শূন্য শুল্ক সুবিধা পাবে। শর্তটি হলো, বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্র থেকেই তুলা ও পোশাকের কাঁচামাল কিনতে হবে। শর্ত মানা না হলে শুল্কহার দাঁড়াবে ৩৪.১ শতাংশে, যা ভারতের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। ভারতের তৈরি পোশাকের ওপর মোট শুল্কহার মাত্র ১৮ শতাংশ। ফলে শর্ত পূরণ না করলে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা ক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত এত দিন ভারতের ওপর কাঁচামালের জন্য নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দেয়, যার প্রভাব পড়ে পোশাক খাতেও। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করলে সংকট কিছুটা লাঘব হতে পারে। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন- শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল হলে একসময় আমরা মার্কিন রপ্তানিকারকদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়তে পারি। ভৌগোলিক দূরত্বও একটি বড় প্রশ্ন- এত দূর থেকে কাঁচামাল আনা কতটা লাভজনক হবে, তা বিবেচনা করতে হবে। অতীতে দেখা গেছে, দ্বিপক্ষীয় চুক্তির সুযোগ কাজে লাগাতে বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকে। দক্ষতা, অবকাঠামো ও কূটনৈতিক তৎপরতার অভাবে প্রাপ্য সুবিধা থেকেও আমরা বঞ্চিত হয়েছি। এবার সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে, সেটিই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা দিন দিন তীব্র হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের মতো বিশাল বাজারে শূন্য শুল্ক সুবিধা নিশ্চিত করতে পারলে তা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের জন্য বড় অর্জন হবে। তবে সেই সুফল পেতে হলে সরকারের পাশাপাশি ব্যবসায়ী মহল, কূটনীতিক ও নীতিনির্ধারকদের সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে। শুধু চুক্তি স্বাক্ষর নয়, বাস্তবায়ন ও শর্ত পূরণের সক্ষমতা গড়ে তোলাই হবে সাফল্যের আসল মাপকাঠি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button