সম্পাদকীয়

আগামী মন্ত্রিসভা নিয়ে জনগণের ভাবনা ও প্রত্যাশা

রাজনৈতিক পালাবদলের প্রেক্ষাপটে নতুন সরকার ও মন্ত্রিসভা নিয়ে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা বেড়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পাওয়ার পর দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের আলোচনা চলছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। তবে কেবল সরকার গঠন নয়, নতুন মন্ত্রিসভা কেমন হবে এবং তারা কীভাবে দেশ পরিচালনা করবে, তা নিয়েই সাধারণ মানুষের আগ্রহ ও প্রত্যাশা বেশি। রাজধানী ঢাকায় অবস্থানরত বিভিন্ন জেলার নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে যে চিত্র পাওয়া গেছে, তাতে একটি বিষয় স্পষ্ট-মানুষ পরিবর্তন চায়, কিন্তু সেটি যেন দৃশ্যমান ও বাস্তব হয়। তারা আর শুধু প্রতিশ্রুতি শুনতে রাজি নন, তারা ফলাফল ও বাস্তবায়ন দেখতে চান। তাদের সঙ্গে আলাপকালে বিগত সরকারের মন্ত্রিসভা ও উপদেষ্টা পরিষদের কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষের কথা জানিয়েছেন অনেকে। অভিযোগ রয়েছে, নীতিনির্ধারণে সমন্বয়ের অভাব, বাজারের ঊর্ধ্বগতি, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং দুর্নীতির প্রশ্নে দৃশ্যমান কঠোরতা না থাকার কারণে সাধারণ মানুষের আস্থা কমেছে। বিশ্লেষকদের মতে, অভিজ্ঞ ও তরুণ নেতৃত্বের সমন্বয়ে গঠিত মন্ত্রিসভা হলে নীতিনির্ধারণে গতি আসতে পারে। অর্থ, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে দক্ষ নেতৃত্ব প্রয়োজন। জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং নিয়মিত কর্মপরিকল্পনা প্রকাশের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জনই হবে নতুন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ। মতিঝিলের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রুবেল (৪০) বলেন, আমরা এমন মন্ত্রী চাই, যারা নিজেদের প্রচার নয়, অর্থনীতিকে গুরুত্ব দেবেন। ব্যবসা-বাণিজ্য স্বাভাবিক না থাকলে দেশ এগোবে না।
তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিই এখন সাধারণ মানুষের প্রধান উদ্বেগ। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর প্রত্যাশন নতুন সরকার বাজার মনিটরিং জোরদার করবে, কৃষি ও উৎপাদন খাতে বাস্তবভিত্তিক সহায়তা দেবে এবং সিন্ডিকেট ভাঙতে কঠোর হবে। ঢাকার বাসাবোর এক গৃহিণী রোকাইয়া নাজনিন বলেন, আমরা রাজনীতি বুঝি না; মাসের বাজার করতে গিয়ে যেন হিমশিম না খেতে হয়, এইটাই প্রধান চাওয়া। এছাড়াও আমরা যাতে নিরাপদে, নির্বিঘ্নে রাস্তাঘাটে চলাচল করতে পারি এবং আমাদের ছেলে-মেয়েরা যাতে মাদকাসক্ত না হয়, সেজন্য কঠোর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চাই। চাকরি ও কর্মসংস্থানের বিষয়টিও বড় প্রত্যাশা হিসেবে উঠে এসেছে। তরুণরা চান শিল্পায়ন, তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সম্প্রসারণ এবং উদ্যোক্তা সহায়তা বাড়ুক। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের এক শিক্ষার্থী হুমায়ন চাকলাদার বলেন, শুধু সরকারি চাকরির কথা বললে হবে না, বেসরকারি খাতেও কাজের সুযোগ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে মানুষ সৎ ও দক্ষ ব্যক্তিদের মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায়। তার মতে, যিনি যে খাতে অভিজ্ঞ, তাকে সেই খাতের দায়িত্ব দিলে সিদ্ধান্ত দ্রুত ও কার্যকর হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও মনে করছেন, অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয়ে গঠিত মন্ত্রিসভা নীতিনির্ধারণে গতিশীলতা আনতে পারে। সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা জটিল নয়-দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে দৃশ্যমান উন্নয়ন এবং স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ। রাজনৈতিক পালাবদলের প্রেক্ষাপটে দেশের মানুষ এবার কার্যকর, সৎ ও জবাবদিহিমূলক মন্ত্রিসভা দেখতে চান। প্রতিশ্রুতির চেয়ে বাস্তব ফলাফলই হবে নতুন সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে নতুন মন্ত্রিসভা কতটা সফল হয়, সেটিই এখন সময়ের প্রশ্ন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button