সফল হোক নতুন সরকার

দেশের অর্থনীতি ভেঙে পড়ার উপক্রম। বিনিয়োগে স্থবিরতা। ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা চরম আস্থার সংকটে। কর্মক্ষম জনসংখ্যা বাড়লেও কর্মসংস্থান বাড়ছে না। তদুপরি একের পর এক শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে কেবলই বাড়ছে বেকারের মিছিল। উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে মানুষের জীবনে রীতিমতো নাভিশ্বাস শুরু হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অবস্থাও ভালো নয়। কর আদায় লক্ষ্যের তুলনায় অনেক পিছিয়ে। ফলে দুর্দশা চারদিক থেকে হাত বাড়িয়ে রেখেছে। এমন পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নিয়েছে নতুন সরকার। পরিস্থিতি সামাল দিতে তারা কতটা সক্ষম হবে, তা নিয়ে অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা সন্দিহান। তার পরও আমরা আশাবাদী। সরকারের সামনে নানামুখী চ্যালেঞ্জ। চিরাচরিত নিয়মে রোজার আগে অতি প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যগুলোর দাম বেড়ে গেছে। দাম সহনীয় পর্যায়ে না রাখা গেলে মানুষের, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে যাবে। আস্থার পরিবেশ তৈরি করা না গেলে বিনিয়োগে গতি আসবে না। বিনিয়োগ না হলে কর্মসংস্থান বাড়বে না। অস্বাভাবিক বেকারত্ব সামাজিক সংকট তৈরি করবে। হামলা-মামলা আর মব সন্ত্রাসকে শক্ত হাতে দমন করতে হবে। তা না হলে নাগরিক জীবনে সৃষ্ট সংকট ক্রমেই গভীর হবে। জনজীবনে স্বস্তি ফেরাতে সর্বাত্মক উদ্যোগ নিতে হবে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচিত সরকারকে সব দিক সামাল দিয়ে চলতে হবে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, তারেক রহমান চরম অস্থির এক সময়ে দেশের দায়িত্বভার কাঁধে নিলেন। তাঁর সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ জনমনে নিরাপত্তার বোধ ফিরিয়ে আনা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন। সেই সঙ্গে ভঙ্গুর অর্থনীতিকে টেনে তোলার কাজটিও করতে হবে। ফিরিয়ে আনতে হবে ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রেখে সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি আনতে হবে। সব মত ও ধর্মের মানুষের নিজ নিজ অবস্থান থেকে কথা বলার ও ধর্মীয় আচার পালন করার স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আশার কথাও বলেছেন। তাঁরা বলেন, নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার মধ্য দিয়ে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা সম্ভব। এখানে রাজনৈতিক সদিচ্ছাটা থাকা জরুরি। বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সিভিল সোসাইটি দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ প্রিভিলেজের সমালোচনা করে আসছে। কারণ এটি একটি বিরাট বৈষম্য। ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি এবং সরকারি প্লট বরাদ্দ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত খুবই ইতিবাচক। রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে কঠিন সমস্যার সমাধান সম্ভব। জয় পাওয়ার পর গা ছাড়া মনোভাব বিপজ্জনক হতে পারে। শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মাহবুব উল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বহুবিধ অর্থনৈতিক সংকট আছে, যেগুলো মোকাবেলা করতে হবে। জনগণের প্রত্যাশা অনেক বিশাল, যা প্রাপ্তির সঙ্গে না মিললে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।’ নির্বাচিত সরকারের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা পাহাড় সমান। তাই সরকারকে প্রথম থেকেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার মানসিকতা নিয়ে এগোতে হবে। অর্থনীতি, ব্যাংকিং খাত, আইন-শৃঙ্খলা উন্নয়নসহ নানা খাতে স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনতে হবে। আমরা আশাবাদী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত সরকার দক্ষতার সঙ্গে সংকট মোকাবেলা করতে সক্ষম হবে।
