কৃষিতে কর্মসংস্থান বাড়ানোর সুযোগ কাজে লাগাতে হবে

দেশের ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব আজ জাতীয় উন্নয়নের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি। প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করলেও কর্মসংস্থানের সুযোগ সেই হারে তৈরি হচ্ছে না। এই বাস্তবতায় বেকারত্ব মোকাবেলায় নতুন সরকারের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত কৃষি-ব্যবসায় স্বনিযুক্তির প্রসার। এটি নতুন সরকারের জন্য হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর নীতি। কারণ, কৃষি এখনো দেশের বৃহত্তম কর্মসংস্থান খাত এবং সঠিক পরিকল্পনায় এটিকে উদ্যোক্তা-নির্ভর শিল্পে রূপ দেওয়া সম্ভব। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশে ১৫-২৯ বছর বয়সী প্রায় ১৯.৪ লাখ যুবক বেকার, যা যুব শ্রমশক্তির প্রায় ৭%। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই বেকারদের প্রায় ৭০% গ্রামাঞ্চলের বাসিন্দা। অন্যদিকে সামগ্রিক শ্রমবাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রতি বছর প্রায় ২০-২৫ লাখ নতুন কর্মী শ্রমবাজারে প্রবেশ করলেও পর্যাপ্ত চাকরি সৃষ্টি হচ্ছে না, ফলে যুব বেকারত্ব ক্রমেই বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে কৃষি খাতের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। কারণ, শিল্প ও সেবা খাতে কর্মসংস্থান সীমিত হলেও কৃষি এখনো প্রায় ৪০-৪৫% মানুষের কর্মসংস্থান দেয়, যদিও এর উৎপাদনশীলতা তুলনামূলক কম। বাংলাদেশে কৃষিকে দীর্ঘদিন শুধু জীবিকা নির্বাহের পেশা হিসেবে দেখা হয়েছে, ব্যবসা হিসেবে নয়। ফলে তরুণরা কৃষি থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। অথচ, আধুনিক কৃষি-ব্যবসা, যেমন উচ্চমূল্যের ফসল, প্রক্রিয়াজাতকরণ, কোল্ড-চেইন, কৃষি প্রযুক্তি, ই-কমার্স বিশাল কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে। বর্তমানে কৃষিতে শ্রমিক সংকট দেখা যাচ্ছে। কারণ, তরুণরা শহরমুখী হচ্ছে। এটি প্রমাণ করে যে কৃষিতে কাজের সুযোগ আছে, কিন্তু তা আকর্ষণীয় নয়। যদি কৃষিকে লাভজনক উদ্যোক্তা-ভিত্তিক খাতে রূপ দেওয়া যায়, তাহলে একইসাথে বেকারত্ব কমবে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। নতুন সরকার পরিকল্পিতভাবে যে খাতগুলোতে তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি করতে পারে তা হলো: কন্ট্রাক্ট ফার্মিং-এর মাধ্যমে উচ্চমূল্যের কৃষিপণ্য উৎপাদন (ফল, সবজি, মসলা, ফুল, অর্গানিক পণ্য, এসবের বাজার দ্রুত বাড়ছে। এগুলোতে কম জমিতে বেশি আয় সম্ভব); পশুপালন, ডেইরি, পোল্ট্রি, ছাগল, মাছ চাষ, গ্রামীণ স্বনিযুক্তির সবচেয়ে দ্রুত ফলদায়ক খাত; কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ (শুকনো খাবার, জুস, আচার, প্যাকেজিং: এগুলো গ্রামে ছোট শিল্প গড়ে তুলতে পারে); কৃষি প্রযুক্তি ও সার্ভিস (ড্রোন, স্মার্ট সেচ, মাটি পরীক্ষা, কৃষিযন্ত্র ভাড়া নতুন প্রজন্মের জন্য আকর্ষণীয় ব্যবসা হতে পারে); কৃষি ই-কমার্স (খামার থেকে সরাসরি ভোক্তার কাছে বিক্রি, যা মধ্যস্বত্বভোগী কমিয়ে কৃষকের আয় বাড়াবে)।
