দেশে বড় ভূমিকম্পের শঙ্কা : নিতে হবে কার্যকরি পদক্ষেপ

দেশে ছোট ছোট ভূ-কম্পনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় দেশে বড় ভূমিকম্প খুবই কাছাকাছি বলছেন বিশেষজ্ঞরা। আর তাতে বাংলাদেশে প্রাণহানীর সংখ্যা এত বড় হতে পারে যা ইতিহাসে বিরল হতে পারে। এত অনিয়ম দুর্নীতি করে বিল্ডিং কোড অনুসরণে ফাঁকিবাজির দিন শেষের দিকে। নিজেও নিজের পরিবারসহ দেশের সাধারণ মানুষকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে ভবন মালিকরা। আর কিভাবে সেফটি নিতে হবে তার কোন জোরালো প্রচারনা নেই। কিভাবে ভূমিকম্প পরবর্তী উদ্ধারকাজ দ্রুত করা যায় তার কোন প্রস্তুতিও নেই। এসব ব্যাপারে এখনই জনসাধারণকে নিজের ভাল নিজে বুঝে নিতে হবে কার্যকরি পদক্ষেপ। তার আগে আমাদেরকে জানতে হবে ভূমিকম্প আসলে কিভাবে হয়।
ভূমিকম্প একটি প্রাকৃতিক ঘটনা, যা পৃথিবীর ভূগর্ভের ফাটল বা ফ্র্যাকচার বরাবর শিলার আকস্মিক আন্দোলনের কারণে ঘটে। এই আন্দোলন তখন ঘটে যখন শিলা চাপ সহ্য করতে পারে না এবং তারা আচমকা ভেঙে যায়, যা ভূমিকম্পের উৎসের মধ্যে চাপমুক্তি ঘটায়। ভূমিকম্পের উৎসের স্থানকে বলা হয় ‘ফোকাস’ এবং পৃথিবীর পৃষ্ঠে ফোকাসের ঠিক উপরের স্থানটিকে বলা হয় ‘এপিসেন্টার’। একটি ভূমিকম্পে এর শক্তি এবং প্র ভাব সহজেই অনুভব করা যায়। উদাহরণস্বরূপ, ৭ মাত্রার ভূমিকম্প ৬ মাত্রার ভূমিকম্পের চেয়ে ৩০ গুণ বেশি শক্তি ছেড়ে দেয়, আবার এটি ৫ মাত্রার ভূমিকম্পের চেয়ে ৩০০ গুণ বেশি শক্তি ছেড়ে দেয়। ভূমিকম্পের তীব্রতা বা ক্ষতি মাপার জন্য গড়ফরভরবফ গবৎপধষষর ঝপধষব ব্যবহার করা হয়, যা ভূমিকম্পের সময় এলাকা কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা নির্ধারণ করে। তবে রিখটার স্কেল দ্বারা ভূমিকম্পের শক্তি মাপা হয়, যা ১৯৩৫ সালে সি.এফ. রিখটার দ্বারা প্র বর্তিত হয়। উপরোক্ত দৃশ্যপটটি বিবেচনায় নিয়ে আমাদের নিজেদের বাঁচানোর জন্য প্র স্তুতি নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ভূমিকম্পের সমস্যা সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি, এমন কাঠামো নির্মাণ করা, যা ভূমিকম্পের শক্তি সহ্য করতে সক্ষম এবং প্র াক-দুর্যোগ সতর্কতা, পর্যবেক্ষণ এবং উদ্ধার ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। বাস্তবে, প্র স্তুতি সম্পর্কে এন.ডব্লিউ. কার্টারের মতে, এটি এমন ব্যবস্থা, যা সরকার, সংস্থা, স্থানীয় প্র শাসন এবং জনগণকে বিপদে পড়ার আগে এবং পরে দক্ষতার সাথে প্র তিক্রিয়া জানাতে সক্ষম করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতীয় ও বর্মী এই দুটো টেকটনিক প্লেটের সংযোগস্থলে বাংলাদেশের অবস্থান হওয়ায় সিলেট-চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলে কয়েক শ’ বছর ধরে প্র চুর পরিমাণে শক্তি সঞ্চিত হয়ে আসছে, যার ফলে বড় ধরনের একটি ভূমিকম্প যে কোনো সময়ে বাংলাদেশে আঘাত হানতে পারে। তবে সেটি কবে হতে পারে তার সুনির্দিষ্ট সময় বলা কঠিন। ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার বলছেন, ‘যে কোনো সময়ে এটা হতে পারে। আগামী ১০ বছরে হতে পারে আবার ৫০ বছরের মধ্যেও হতে পারে। আমরা শুধু জানি, এই সঞ্চিত শক্তি এক সময়ে বের হবেই, এর কোনো বিকল্প নাই। তবে ভূমিকম্প কোথায় হতে পারে আমরা তার স্থান নির্ধারণ করতে সক্ষম হয়েছি। চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে ভূমিকম্প অবধারিত।’ বিজ্ঞানীরা বলছেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিশেষ করে চট্টগ্রাম-পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে ভূমিকম্পের যে উৎস রয়েছে তাতে গত এক হাজার বছরের মধ্যে বড় মাত্রার ভূমিকম্প না হওয়ার কারণে এখন যে কোনো সময়ে এটি আঘাত করতে পারে।
