সম্পাদকীয়

জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ আরো বিপজ্জনক মোড় নিচ্ছে। যুদ্ধের সপ্তম দিন গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো ইরানে হাজার পাউন্ডের ‘বাংকার বাস্টার’ বোমা হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে ইরান ইসরায়েলে নজিরবিহীন ক্লাস্টার ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলা করেছে বলে অভিযোগ তুলেছে ইসরায়েল। ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টিকারী এই যুদ্ধ শিগগিরই থামার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বাংলাদেশেও রান্নাবান্না থেকে শুরু করে পরিবহন বা শিল্প-কারখানায় সমস্যা তৈরি হচ্ছে। জ্বালানি সরবরাহকারী পাম্পগুলোতে যানবাহনের লাইন কেবলই দীর্ঘ হচ্ছে। গতকাল কালের কণ্ঠে একাধিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে দুর্ভোগের করুণ চিত্র। কাতার সতর্ক করে দিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধ বিশ্বের অর্থনীতিকে ‘ধ্বংস’ করতে পারে। দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী সাদ আল-কাবি বলেছেন, এই অঞ্চলে ইসরায়েলি-মার্কিন হামলা এবং ইরানের প্রতিশোধের ফলে কয়েক দিনের মধ্যেই উপসাগরীয় জ্বালানি রপ্তানিকারকদের সব ব্যবসা বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলারে পৌঁছে যেতে পারে। প্রকাশিত খবরে বলা হয়, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন পেট্রল পাম্পে গত শুক্রবার জ্বালানি তেল কিনতে ক্রেতাদের অস্বাভাবিক ভিড় দেখা গেছে। জ্বালানিসংকটের আশঙ্কায় অনেকে আগেভাগে বেশি করে তেল নিয়েছেন। অতিরিক্ত চাহিদার কারণে কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে তেল বিক্রি বন্ধ রাখা হয়। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার সরকার তেল কেনার সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) এক নির্দেশনায় বলা হয়, একটি মোটরসাইকেলে দিনে দুই লিটার পেট্রল বা অকটেন নিতে পারবে। ব্যক্তিগত গাড়ির ক্ষেত্রে নেওয়া যাবে ১০ লিটার তেল। স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকল বা এসইউভি (যা জিপ নামে পরিচিত) ও মাইক্রোবাস দিনে পাবে ২০ থেকে ২৫ লিটার তেল। পিকআপ বা লোকাল বাস দিনে ডিজেল নিতে পারবে ৭০ থেকে ৮০ লিটার। আর দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান বা কনটেইনার ট্রাক দৈনিক ২০০ থেকে ২২০ লিটার তেল নিতে পারবে। এ বিষয়ে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘দেশে বর্তমানে জ্বালানির বড় কোনো সংকট নেই। বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’ বিদ্যুৎ বিভাগ ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবির) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, গ্যাস সরবরাহে রেশনিং শুরু হওয়ায় আগামী সপ্তাহ থেকে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং করে বিদ্যুতের লোড ম্যানেজমেন্ট শুরু হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে জনগণকেও পরিস্থিতি বিবেচনায় সাশ্রয়ী ব্যবহারের আহবান জানানো হয়েছে। অন্যদিকে বাজারে এলপিজি সরবরাহ নিয়েও কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডার সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি সংকট তৈরির আশঙ্কা করা হচ্ছে চট্টগ্রামে। প্রকাশিত খবরে বলা হয়, আমদানি করা এলএনজির ওপর শতভাগ নির্ভরশীল চট্টগ্রামে রান্নাঘর থেকে শুরু করে বিশালাকার ইস্পাত ও সার কারখানাগুলোতে চরম অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা করা না যায়, তবে চট্টগ্রাম কেবল তিমিরেই ডুববে না, এই অঞ্চলের উৎপাদনব্যবস্থাও সম্পূর্ণ ভেঙে পড়তে পারে।
সরকার বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করার চেষ্টা করছে। আমরা আশা করি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার শতভাগ সফল হবে। তার পরও পরিস্থিতির গুরুত্ব আমাদের উপলব্ধি করে সবাইকে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে এবং ধৈর্য ও সহনশীলতার পরিচয় দিতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button