বিকল্প কৌশল নিতে হবে

সবজি রপ্তানি বন্ধ
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানে যৌথ আক্রমণে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্বব্যাপী এর প্রভাব পড়েছে। জ্বালানি খাত থেকে শুরু করে আমদানি-রপ্তানি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। চাপের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশও। গতকাল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে দেশের সবজি রপ্তানি কার্যত বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে এই পরিস্থিতি কাজে লাগিয়ে প্রতিযোগী দেশগুলো বাজার দখলে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান ও কুয়েত এই পাঁচ দেশে মূলত বাংলাদেশ সবজি রপ্তানি করে থাকে। এসব দেশে বাংলাদেশি সবজির কদরও ভালো।
কিন্তু ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলার শুরুর দিন থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে সবজি পাঠানো বন্ধ রয়েছে। কার্গো ফ্লাইট বন্ধ থাকায় নিরুপায় হয়ে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের মোট সবজি রপ্তানির প্রায় ৬০ শতাংশ যায় মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে, বাকি ৪০ শতাংশ যায় ইউরোপের দেশগুলোতে। কিন্তু ইউরোপে পাঠানো পণ্যের বড় অংশই মধ্যপ্রাচ্যের বিমানবন্দর হয়ে ট্রানজিট নিয়ে থাকে। এই পরিস্থিতিতে সেটিও হচ্ছে না। তাহলে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশে সবজি রপ্তানি প্রায় শতভাগই বন্ধ রয়েছে। এই কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারকে বিকল্প পথের সন্ধান করতে হবে। খবরে বলা হয়েছে, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ভারত ও পাকিস্তান বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যে কম সময়ের মধ্যে সবজি পাঠাতে পারছে। ভারত মুম্বাই বন্দর ব্যবহার করে তিন দিনের মধ্যে সবজি পাঠাচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের সেই সক্ষমতা গড়ে ওঠেনি, এমনকি এদিকে ভালোভাবে নজরও দেওয়া হয়নি। বাংলাদেশ সম্ভাবনাময় দেশ। বিশেষ করে কৃষিপণ্য রপ্তানিতে আমাদের বড় সুযোগ রয়েছে। দেশের মাটি উর্বর এবং কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী রয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন শুধু টেকসই ব্যবস্থাপনা এবং কৃষকবান্ধব নীতি। ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি ছাড়াও যেকোনো সময় বিমানে সবজি রপ্তানিতে ভারতের চেয়ে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ খরচ বেশি হয়। এতে কৃষকরা আন্তর্জাতিক বাজারে জায়গা করে নিতে হিমশিম খান। বিমান বা কার্গো ভাড়া নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোনো নীতিমালা না থাকাই এর মূল কারণ। যুদ্ধ পরিস্থিতির মতো আপৎকাল মোকাবেলায় সরকারকে বিকল্প কৌশল অনুসরণ করতে হবে। পাশাপাশি একটি টেকসই রপ্তানিনীতি বাস্তবায়ন করতে হবে। কৃষি বিশেষজ্ঞ মজিবুল হক মনে করেন, সবজি রপ্তানিতে সক্ষমতা বাড়াতে পাঁচ থেকে ১০ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে। সারা বছর সবজি উৎপাদনের যে সক্ষমতা রয়েছে, তাকে কাজে লাগাতে হবে। শুধু কাঁচা সবজি রপ্তানির ওপর নির্ভর না করে হিমায়িত, ‘রেডি টু কুক’ পণ্যের দিকে জোর দিতে হবে। আমরা মনে করি, সরকার বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গুরুত্ব দেবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। দেশের কৃষি খাত বাঁচাতে হলে এখানে কোনো ধরনের উদাসীনতা কাম্য নয়।
