ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে স্বচ্ছতা বজায় থাকুক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে অন্যতম ইস্যু ছিল দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ। দলটির নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের স্বল্প সময়ের মধ্যে কর্মসূচিটি চালুর মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, এর মধ্য দিয়ে দেশের অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠী অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুরক্ষা পাবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গতকাল রাজধানীর কড়াইলে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। বেশ কয়েকজন নারীর হাতে তিনি নিজেই এই কার্ড তুলে দেন। এরপর ১৩টি জেলায় একযোগে কর্মসূচি চালু হয়। প্রথম ধাপে ৩৭ হাজার ৫৬৭ জন নারীকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। কার্ডধারীরা প্রতি মাসে নগদ দুই হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা পাবেন। বলা বাহুল্য, সংকটাপন্ন একজন দরিদ্র নারীর জন্য এই অর্থ নতুন করে জীবনীশক্তি জোগাবে। অর্থনৈতিক সূচক বলছে, গত দুই দশকে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করলেও সেই সুফল সবার কাছে সমানভাবে পৌঁছেনি। অনেক পরিবারকে আজও কঠিন লড়াই করে টিকে থাকতে হচ্ছে। প্রতিদিন তিনবেলা খাবারই জুটে না, সেখানে শিক্ষা, চিকিৎসা ব্যয় তো পরের কথা। এমন কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে থাকা পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড হতে পারে অন্ধকারে আলোর শিখা। এখনো দেশের প্রায় ২৮ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে, এর মধ্যে ৯ শতাংশ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে রয়েছে। তার মধ্যে মূল্যস্ফীতির কারণে এক শ্রেণির মানুষ নতুন করে দরিদ্র হচ্ছে। কাজেই দেশকে সমৃদ্ধ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ফ্যামিলি কার্ডের মতো কর্মসূচির বিকল্প নেই। এর আগেও সামাজিক সুরক্ষায় নানা কর্মসূচি চালু ছিল বয়স্ক ভাতা, ভিজিডি, ভিজিএফ ইত্যাদি। এগুলো বিচ্ছিন্ন কর্মসূচি থাকায় একই পরিবারে একাধিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ ছিল আবার অনেক প্রকৃত দরিদ্ররা বাদও পড়েছে। এ ক্ষেত্রে ফ্যামিলি কার্ড হতে পারে ব্যতিক্রম। এই কার্ডের ক্ষেত্রে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার বিষয়টিও নিশ্চিত করা হবে। তাঁর কথায়, নারীর অধিকার ও মর্যাদা রক্ষাই সরকারের মূল লক্ষ্য। সামনের দিনে এই কার্ড দিয়ে ধারাবাহিকভাবে সরকারি সহায়তা পাওয়া যাবে। আগামী দিনে ফ্যামিলি কার্ড সুবিধার পরিধিও বাড়ানো হবে। এ ক্ষেত্রে একটি বিষয়কেই প্রাধান্য দিতে হবে, অতিদরিদ্ররা যেন কিছুতেই বাদ না পড়েন। সরকার থেকে বারবার বলা হচ্ছে, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হবে না। অনিয়ম রোধে বেশ কিছু পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। আমরা মনে করি, সরকার শেষ পর্যন্ত এই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বজায় রাখবে।
