সম্পাদকীয়

দূষণ রোধের উদ্যোগ নিন

# নদীতে মাত্রাতিরিক্ত বিষাক্ত ভারী ধাতু #

বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। সারা দেশে জালের মতো ছড়িয়ে আছে অসংখ্য নদ-নদী। কিন্তু অত্যন্ত হতাশার বিষয় হলো, এই সুবিস্তৃত মিঠা পানির উৎস আমরা মোটেই কাজে লাগাতে পারছি না, বরং দিন দিন প্রায় সব নদী শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাচ্ছে। বড় নদীগুলোও নাব্যতা হারাচ্ছে। সবচেয়ে উদ্বেগের কথা হলো, প্রাকৃতিক সম্পদের এই বিপুল ভা-ার মাত্রাতিরিক্ত দূষিত হয়ে পড়েছে। গতকাল ১৪ মার্চ আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস উপলক্ষে বিষয়গুলো আবারও আলোচনায় এসেছে। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, দেশের নদ-নদীতে বিষাক্ত ভারী ধাতুর দূষণ উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। একসময় রাজধানীর আশপাশের নদীগুলোতে এই দূষণ সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন তা ছড়িয়ে পড়েছে উপকূলীয় নদী এবং মোহনায়ও। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে জীববৈচিত্র্য ও মৎস্যসম্পদে। মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে মানুষের স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা। খবরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আশরাফুল আজম খান ও কাজী নুসরাত জাহান ঐশীর যৌথ গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়েছে। জানা গেছে, গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে মাতামুহুরী নদী, বাঁকখালী নদী, মহেশখালী চ্যানেল, নাফ নদী, সেন্ট মার্টিন দ্বীপসহ গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় এলাকায়।
গবেষণার ফলাফল বলছে, বাঁকখালী নদী ও মহেশখালী চ্যানেল উপকূলীয় দূষণের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল। বিশেষ করে সবচেয়ে ক্ষতিকর ধাতু ক্যাডমিয়ামের মাত্রাতিরিক্ত উপস্থিতি পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই দূষণ উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্রের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এতে ম্যানগ্রোভ বন, নদ-নদীর মোহনার তলদেশের জীববৈচিত্র্য, এমনকি সামুদ্রিক খাদ্যচক্র মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এমনকি কোনো কোনো স্থানে মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য একেবারে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে। নদীদূষণের কারণ আমাদের অজানা নয় নয়। শিল্প-কারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য, নগর পয়োনিষ্কাশন, জাহাজ ভাঙা কার্যক্রম, বন্দরভিত্তিক নৌচলাচল এবং কৃষিতে ব্যবহৃত কীটনাশক এই সবকিছুর শেষ গন্তব্য হলো নদী। কিন্তু দূষণের কারণ জানা থাকলেও দূষণ রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেই বললেই চলে। নানা সময় নদী রক্ষায় আলোচনা-পর্যালোচনা হলেও সেগুলোর বাস্তবায়ন তেমন দেখা যায় না। আমরা মনে করি, বছরের পর বছর ধরে প্রাণঘাতী এমন দূষণ কোনোভাবেই চলতে পারে না। কোথাও গিয়ে আমাদের থামতে হবে। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকোয়াকালচার বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী বলেছেন, “নদীকে ‘জীবন্ত সত্তা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে। আমাদের উচ্চ আদালতও একই স্বীকৃতি দিয়েছেন। অথচ আমরা উল্টো পথে হাঁটছি।” কাজেই সরকারকে সার্বিক পরিস্থিতি আমলে নিতে হবে। একই সঙ্গে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন
Close
Back to top button