চাই আগাম প্রস্তুতি

# ঈদযাত্রায় দুর্ভোগের আশঙ্কা #
প্রতিবছর ঈদে ঘরমুখো মানুষকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সাধারণ সময়ে তিন-চার ঘণ্টার পথে ঈদের সময় দীর্ঘ যানজটের কারণে ১২-১৩ ঘণ্টা লেগে যায়। এর সঙ্গে রয়েছে টিকিট কালোবাজারি, অতিরিক্ত ভাড়া, ফিটনেসবিহীন গাড়ির দাপট। সড়ক, রেল ও নৌ পথ সবখানেই যাত্রীদের পদে পদে হয়রানির শিকার হতে হয়। এবারও একই আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, কিন্তু অতীত অভিজ্ঞতা বলে শেষ মুহূর্তে সবকিছু ভেঙে পড়ে। কালের কণ্ঠে গতকাল প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারও ঈদযাত্রায় দীর্ঘ যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। প্রতিবেদনে দেশের বিভিন্ন স্থানে যানজটের হটস্পটের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে শুধু কুমিল্লা অংশেই ২৫টি স্থানে যানজটের ঝুঁকি রয়েছে। ময়মনসিংহে বাইপাস ও ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর সেতু এলাকা যাত্রীদের কাছে রীতিমতো আতঙ্কের বিষয়। সাধারণ সময়ে এইটুকু পথ অতিক্রম করতে ১০ থেকে ১৫ মিনিট লাগলেও প্রতি ঈদে এখানে যাত্রীদের অন্তত তিন-চার ঘণ্টার জ্যামে বসে থাকতে হয়। সিলেটে সড়কের করুণ দশা তো পুরনো খবর। উত্তরবঙ্গের যাত্রীদের চন্দ্রা মোড় পার হতেই ঈদের আনন্দ ফিকে হয়ে যাওয়ার দশা। সপ্তাহখানেক আগেও কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনেই দেশজুড়ে যানজটের ২০৭টি হটস্পটের কথা বলা হয়েছিল। একই প্রতিবেদনে প্রায় দেড় হাজার কিলোমিটার সড়কের করুণ চিত্র তুলে ধরা হয়েছিল। অর্থাৎ সংকটগুলো নতুন নয়, কিন্তু সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেই। বছরের পর বছর ধরে পরিবহন খাতে নৈরাজ্য চলে আসছে। আর ঈদ যখন দোরগোড়ায়, তখন এসব নিয়ে আলোচনা হয়। এ কথা অস্বীকার করার জো নেই, মাত্র দু-তিন দিনে বিপুলসংখ্যক মানুষ রাস্তায় নামলে সবখানেই চাপ পড়বে। কিন্তু এ কথাও সত্য, যানজট ও টিকিট কালোবাজারির মতো হয়রানির মূল কারণ হলো অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা। সড়কে খানাখন্দ, যত্রতত্র গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা, মহাসড়কে ফিটনেসবিহীন গাড়ি, চাঁদাবাজি, অটোরিকশা সব মিলিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ঈদযাত্রায় আরেকটি বড় উদ্বেগের বিষয় হলো দুর্ঘটনা। এ সময় অনেক অদক্ষ চালক গাড়ি নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়েন। বাড়তি আয়ের জন্য অনেক চালক নির্ঘুম থেকে কয়েক ট্রিপ বেশি দিতে চান। রয়েছে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছার তাড়া। উপায়ান্তর না দেখে অনেকেই ট্রাক বা ভ্যানেও সওয়ার হন। আর এসবের পরিণতি হলো দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বা অঙ্গহানি। আমরা মনে করি, আগাম প্রস্তুতি এবং কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করলে ঈদে ঘুরমুখো মানুষের দুর্ভোগ অনেকটা লাঘব হবে। সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছে, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ২২ দফা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কঠিন চ্যালেঞ্জ হলো এসবের বাস্তবায়ন। অতীতে দেখা গেছে, নানা পদক্ষেপের কথা বলা হলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবে দেখা যায় না। যেসব এলাকা যানজটের হটস্পট হিসেবে পরিচিত, সেসব এলাকায় বাড়তি পদক্ষেপ নিতে হবে। নতুন সরকার ক্ষমতায় বসার পর এটিই প্রথম ঈদ। কাজেই সরকারের দক্ষতা প্রমাণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। নজরদারি সহজ করতে প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া কিছু ক্ষেত্রে যাত্রীদের সচেতন হতে হবে, অন্তত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রা পরিহার করতে হবে।
