সম্পাদকীয়

জাতির অহংকার অক্ষুন্ন থাকুক

# মুক্তিযুদ্ধের চেতনা #

মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। দেশের সর্বস্তরের মানুষের বীরত্ব, আত্মত্যাগ ও ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের চিরন্তন স্মারক। লাখো শহীদের জীবনের বিনিময়ে পাওয়া আমাদের এই দেশ, একটি মানচিত্র। অথচ দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে নানা সময় মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসও বিকৃতির অপচেষ্টা করা হয়েছে। আমরা স্বাধীনতাসংগ্রামকে কটু বিতর্কের বাইরে রাখতে পারিনি। নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের মুক্তিসংগ্রামের সঠিক ইতিহাস আজও অধরা। এমনকি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কিছু মহল তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করতেও পিছপা হয় না, যা কোনোভাবেই মানা যায় না। এবার স্বাধীনতার ৫৬ বছরে পা রাখল বাংলাদেশ। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বাধীনতা দিবসের বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাধীনতা দিবসের আলোচনায় মুক্তিযুদ্ধের মর্মার্থ তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, ‘এমন কিছু করা উচিত নয়, যা মুক্তিযুদ্ধের গৌরব খাটো করে।’ তাঁর কথায়, ‘তৎকালীন বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে আমরা বিজয় ছিনিয়ে এনেছিলাম। সুতরাং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের যে গৌরবগাথা, তা নিয়ে আলোচনা চলবে, গবেষণা চলবে, এটি স্বাভাবিক ব্যাপার। তবে আলোচনা, সমালোচনা কিংবা গবেষণার নামে এমন কিছু করা বা বলা ঠিক হবে না, যেটি আমাদের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাসকে কোনোভাবে ক্ষুন্ন করে।’ প্রবাহ’র এসব কথা বলা হয়েছে।
একই অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদও প্রধানমন্ত্রীর অভিন্ন সুরে কথা বলেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষায়, ‘একাত্তরকে অন্য কোনো ইতিহাসের সঙ্গে মেলানো যাবে না। একাত্তর আগে, বাকি সব পরে।’ যদিও নিকট অতীতে আমরা দেখেছি, মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের নানাভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে। বিশেষ করে অন্তর্র্বতী সরকারের আমলে মুক্তিযোদ্ধা নিগৃহের বহু ঘটনা ঘটেছে। একাত্তরের সঙ্গে চব্বিশের আন্দোলনের তুলনা করে অনেক বিতর্ক হয়েছে, যা কোনোভাবে কাম্য নয়। এতে তরুণ প্রজন্মের কাছে ভুল বার্তা যায়। আলোচনা অনুষ্ঠানে তরুণ প্রজন্মের প্রতি প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম অনিবার্য চরিত্র শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। আমরা দেখেছি, অতীতে যেভাবে শহীদ জিয়াউর রহমানকে, তাঁর অবদানকে, তাঁর কাজকে খাটো করার চেষ্টা করা হয়েছে, এর থেকেই প্রমাণিত হয়েছে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অবশ্যই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একজন অনিবার্য চরিত্র।’ একাত্তর হলো আমাদের জাতীয় মুক্তিসংগ্রামের অধ্যায়। দেশের জন্ম ইতিহাস। এই মহান ইতিহাস যত বিতর্কমুক্ত রাখা যাবে, ততই জাতির জন্য মঙ্গল। স্বাধীনতাসংগ্রাম মূলত সর্বস্তরের মানুষের সংগ্রাম। তাই মুক্তিযুদ্ধকে কোনো একক রাজনৈতিক দলের কৃতিত্ব হিসেবে দেখার চেয়ে সর্বস্তরের জনগণের অর্জন হিসেবে দেখা দরকার। একই সঙ্গে অতীত নিয়ে আমাদের অযথা বিতর্ক এড়িয়ে চলা দরকার, তবে অতীত ভুলে গেলে চলবে না। প্রধানমন্ত্রী যথার্থই বলেছেন, অতীত নিয়ে সব সময় পড়ে থাকলে এক চোখ অন্ধ, আর অতীতকে যদি আমরা ভুলে যাই, তাহলে আমাদের দুই চোখই অন্ধ। তাই অতীত নিয়ে অতিরিক্ত চর্চা নিরুৎসাহ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। আমরা মনে করি, জাতি হিসেবে মজবুত ভিতের ওপর দাঁড়াতে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি প্রয়োজন মুক্তিযুদ্ধের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন। যে স্বপ্ন নিয়ে দেশের আপামর জনসাধারণ জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, সেই স্বপ্ন আজও স্বপ্নই রয়ে গেছে। আমাদের সবার উচিত সেই স্বপ্নপূরণে ঐক্যবদ্ধ পথচলা।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button