জরুরি পদক্ষেপ নিন

# স্বাস্থ্য খাতে অব্যবস্থাপনা #
আমাদের স্বাস্থ্য খাতে ভগ্নদশা দীর্ঘদিনের। বছরের পর বছর ধরে সরকারি হাসপাতালগুলোতে নামমাত্র চিকিৎসা চলছে। জরুরি প্রয়োজনে তাদের পাশে পাওয়া যায় না বললেই চলে। বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিকগুলোতে সেবামূল্য অতিরিক্ত। সাধারণ মানুষ আসলে যাবে কোথায়? গতকাল কালের কণ্ঠে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের (রামেক) অব্যবস্থাপনার করুণ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। খবরে বলা হয়েছে, হাসপাতালটির আইসিইউ অব্যবস্থাপনার কারণে ১৮ দিনে ৫১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সঠিক সময়ে সঠিক সেবা পেলে এই শিশুদের অনেকেই হয়তো এখনো পৃথিবীর আলো দেখত। এই ৫১ শিশু মারা গেছে মার্চের ১০ তারিখ থেকে গত শনিবার পর্যন্ত ১৮ দিনে। তারা প্রত্যেকেই আইসিইউ শয্যার জন্য ‘অপেক্ষমাণ তালিকায়’ ছিল। কিন্তু কয়েক শিশুর সিরিয়াল মিলেছে মৃত্যুর পর। খবরে বলা হয়েছে, হতভাগ্য এই শিশুদের বেশির ভাগই রাজশাহী হাসপাতালের সাধারণ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিল। পরিস্থিতির অবনতি হলে চিকিৎসকরা আইসিইউতে নেওয়ার সুপারিশ করেছিলেন। কিন্তু সময়মতো আইসিইউ শয্যা না পাওয়ায় শিশুরা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে। এই অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার দায় কার? স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, রাজশাহী মেডিক্যালের পরিচালককে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝোলানো উচিত। মন্ত্রীর কথা হলো, এতগুলো শিশু মারা গেল, অথচ সেখানকার পরিচালক জানাননি তাঁর কাছে ভেন্টিলেটর নেই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার কথা মন্ত্রী নিজেই বলেছেন, ‘আমি ফোন করার পর তিনি (পরিচালক) দাবি করেন, মিডিয়া একটু বাড়াবাড়ি করছে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে দেখা গেল, মিডিয়া যা বলেছে, তা-ই সত্য। ’ আমরা মন্ত্রীর ক্ষোভের গুরুত্ব দিতে চাই। কর্তৃপক্ষের অবহেলায় এতগুলো প্রাণ ঝরে গেল, তা মানা যায় না। অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। নইলে স্বাস্থ্য খাতে এমন করুণ চিত্র ফিরে ফিরে আসবে। প্রবাহতে প্রকাশিত আরেক প্রতিবেদনে হাম-জলবসন্তের প্রকোপের কথা তুলে ধরা হয়েছে। রাজধানীর মহাখালীতে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে রোগীর চাপ মাত্রাতিরিক্ত। গত শনিবার পর্যন্ত সেখানে হামের রোগী ভর্তি হয়েছে ৪৫০ জন, জলবসন্তে আক্রান্ত হয়ে সেখানে ঠাঁই নিয়েছে ১৬০ জন। হামে এ পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যুও হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাসপাতালে হামের রোগীদের জন্য নির্ধারিত শয্যা মাত্র ১০টি। অথচ রোগী ভর্তি হয়েছে প্রায় ১০ গুণের বেশি। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়বে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন মনে করেন, টিকাদানের ঘাটতির কারণে হামের সংক্রমণ বাড়ছে। তাই এ ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু পদক্ষেপ নেওয়া দরকার বলে আমরা মনে করি।
