প্রান্তিক চিকিৎসায় গুরুত্ব দিন

# রাজশাহীর ছয় জেলায় আইসিইউ অচল #
বাংলাদেশে চিকিৎসাব্যবস্থায় অনিয়ম-অব্যবস্থাপনার শেষ নেই। পদে পদে রোগী ও রোগীর স্বজনদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। তবে শহরাঞ্চলের বাইরে জেলা-থানা পর্যায়ে চিকিৎসার হাল আরো করুণ। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ চিকিৎসা পায় না বললেই চলে। এসব এলাকায় হাসপাতালে যন্ত্রপাতি থাকলে জনবল নেই, আবার কোথাও জনবল থাকলে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নেই। কালের কণ্ঠে গতকাল প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজশাহী বিভাগের ছয় জেলায় আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) সেবা কার্যত অচল হয়ে আছে। কারণ কী? জানা গেছে, ছয়টি জেলায় অন্তত ৬০টি আইসিইউ শয্যা আছে, কিন্তু দক্ষ চিকিৎসক ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সেবিকার অভাবে সেগুলোতে সেবা দেওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে বিভাগের সব রোগী যাচ্ছে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে। এতে সেখানে সক্ষমতার তুলনায় রোগীর ভিড় বাড়ছে। ফলে যা হওয়ার, তা-ই হচ্ছে। সেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। আইসিইউয়ের জন্য হাহাকার বাড়ছে। গতকালের খবরেই বলা হয়েছে, রামেকে আরো তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আরেক খবরে বলা হয়েছে, পটুয়াখালীর চারটি উপজেলায় ৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০ শয্যার সাতটি মা ও শিশু কেন্দ্র এখনো চালু হয়নি। বছরের পর বছর ধরে এগুলো তালাবদ্ধ রয়েছে। এখানেও সেই একই কারণ, অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতি আছে, শুধু জনবল নেই। খোঁজ নিলে দেখা যাবে, বাংলাদেশের বেশির ভাগ জেলা-থানা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার এমন করুণ দশা। সম্প্রতি সারা দেশে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। গত দুই দশকে সর্বোচ্চ মৃত্যু দেখছে দেশ। শতাধিক শিশু মারা গেছে। আরো বহু শিশু হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। সম্প্রতি রাজশাহীতে আইসিইউ শয্যার অভাবে শিশুদের করুণ মৃত্যুর খবর দেশবাসী জেনেছে। এরপর দেখা যাচ্ছে, স্বাস্থ্যব্যবস্থার নানা ত্রুটিবিচ্যুতির খবর বেরিয়ে আসছে। অতীতেও এমন দেখা গেছেÑঅর্থাৎ অব্যবস্থাপনা আগেই থাকে, কোনো বড় ঘটনার পর তা চাউর হয়। এই পরিস্থিতির অবসান জরুরি। আমরা জানি, বাংলাদেশ জনবহুল দেশ, সম্পদও সীমিত। প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবলের আরো অভাব। কিন্তু এ জন্য সম্পদের অপচয় তো কম হয় না। এই যে রাজশাহী বিভাগে কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহৃত হচ্ছে না, বিকল হয়ে পড়ে আছেÑএর মূল্য কে চুকাবে? কাজেই দেশের সার্বিক চিকিৎসাব্যবস্থা ঠিক করতে হলে প্রান্তিক পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে। অবকাঠামো ও দক্ষ জনবল দুটিরই ব্যবস্থা করতে হবে। সাধারণ লোকজন স্থানীয় হাসপাতালে সেবা পেলে তারাও আর শহরমুখী হবে না। স্বাস্থ্যকর্মীদেরও সেবার মানসিকতা নিয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাস করতে হবে।
