শুল্কের বাধা দূর করুন

# নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে পিছিয়ে বাংলাদেশ #
জীবাশ্ম জ্বালানি নিয়ে গোটা বিশ্বই আজ বিপর্যয়ের মুখে রয়েছে। দেশে দেশে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি অনেকটা অনিবার্য হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু তেল-গ্যাসের ওপর অতিনির্ভরতা, মোটা অঙ্কের বাণিজ্য, বিশ্বরাজনীতিসহ নানা বিষয় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার পরও কিছু দেশ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌর ও বায়ু বিদ্যুতের দিকে জোর দিয়েছে। কিন্তু জ্বালানিতে আমদানিনির্ভর হওয়ার পরও বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে। এমনকি নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে যেসব যন্ত্রপাতি সহজলভ্য হওয়ার কথা, সেখানেও বসানো হয়েছে উচ্চ শুল্কের খড়্গ। কালের কণ্ঠের খবরে বলা হয়েছে, বর্তমানে নবায়নযোগ্য জ্বালানির যন্ত্রপাতি আমদানিতে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক রয়েছে, যা এই খাতে বিনিয়োগে বড় বাধা মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। প্রচলিত জ্বালানি খাত নানা পর্যায়ে ভর্তুকি ও নীতিগত সুবিধা পেলেও সম্ভাবনাময় ও পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানি তা পাচ্ছে না। বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসআরইএ) সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ মনে করেন, এ ক্ষেত্রে নীতিগত বৈষম্য তৈরি করা হয়েছে। গত সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত এলএনজি, কয়লা ও তেলের উচ্চমূল্যের কারণে সরকারকে প্রতিদিন প্রায় ২০০ কোটি টাকার বেশি ভর্তুকি দিতে হচ্ছে, যা দীর্ঘ মেয়াদে অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। অথচ অভিজ্ঞতা বলছে, সঠিক নীতিগত সহায়তা পেলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি দ্রুত জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে। কাছের দেশ পাকিস্তান, ভারত, ভিয়েতনাম ও চীন এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। এই দেশগুলো নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে কর অব্যাহতি, কম শুল্ক এবং সহজ শর্তে বিনিয়োগের কৌশল প্রয়োগ করেছে। জীবাশ্ম জ্বালানি আমাদের কতটা ক্ষতি করছে, তা এখন আর কারো অজানা নেই। গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের ফলে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে, সর্বোপরি বিশ্বব্যাপী জলবায়ু বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া জ্বালানি খনিজও ফুরিয়ে আসছে। জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে বিজ্ঞানীরা বারবার সতর্ক করলেও বিশ্বনেতাদের ঘুম ভাঙছে না। কিন্তু আজ হোক, কাল হোক, নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে সবাইকে যেতে হবে। আমরা মনে করি, এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার। নবায়নযোগ্য জ্বালানির যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্ক কমাতে হবে। সরকারকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবেÑআসছে বাজেটে এর প্রতিফলন দেখতে চাই। পাশাপাশি টেকসই ব্যবস্থাপনাও নিশ্চিত করতে হবে।
