ভাইরাল রোম্যান্টিক মুহূর্তে জল্পনা, আলোচনায় সিয়াম-সুস্মিতা

প্রবাহ বিনোদন: শুটিং প্রায় শেষের পথে, ঠিক তখনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝড় তুলেছে নায়ক সিয়াম আহমেদ ও নায়িকা সুস্মিতা চ্যাটার্জির এক রোম্যান্টিক মুহূর্তের ছবি। ছবিতে তাদের ঘনিষ্ঠ উপস্থিতি দেখে অনেকেরই মনে হয়েছে, ক্যামেরা থামলেও আবেশ থামেনি। এই এক ফ্রেম ঘিরেই নেটিজেনদের কৌতূহল এখন তুঙ্গে।
জানা গেছে, ভাইরাল হওয়া ছবিটি মূলত ‘রাক্ষস’ সিনেমার একটি গানের দৃশ্যের অংশ। শুটিংয়ের ফাঁকে ছবিটি সামনে আসতেই শুরু হয় নানা জল্পনা। ভারতীয় গণমাধ্যমের এক প্রশ্নে বিষয়টি নিয়ে রসিকতা করেন সিনেমাটির পরিচালক মেহেদী হাসান হৃদয়। হাসতে হাসতে তিনি বলেন, “ওরা তো চুটিয়ে প্রেম করছেন।” তার এই মন্তব্যে আলোচনা আরও ছড়িয়ে পড়ে।
পরিচালক জানান, পর্দায় একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে সিয়াম ও সুস্মিতার মধ্যে খুব অল্প সময়েই ভালো বোঝাপড়া তৈরি হয়েছে। শুরু থেকেই ক্যামেরার সামনে তারা সাবলীল, যার প্রভাব পর্দার রসায়নেও স্পষ্ট। তার ভাষায়, এই স্বচ্ছন্দতাই জুটিকে বিশ^াসযোগ্য করে তুলেছে।
সুস্মিতাকে নিয়ে সিয়াম আহমেদের বক্তব্যও বেশ ইতিবাচক। তিনি বলেন, “সুস্মিতা খুব ভালো মেয়ে এবং ভীষণ মিশুক। গত ১৩ দিন ধরে আমরা শ্রীলঙ্কায় শুটিং করছি। কাজের অভিজ্ঞতা সত্যিই চমৎকার।” শুটিং চলাকালে নিজের লুক প্রকাশে বরাবরই সংযত সিয়াম এবারও সেই নীতি বজায় রেখেছেন। ‘জংলি’ সিনেমার সময় যেমন করেছিলেন, তেমনি এবারও গোপনীয়তা ধরে রেখেছেন তিনি।
তবে ভক্তদের আগ্রহের কথা ভেবে শ্রীলঙ্কা থেকেই এই গানের দৃশ্যের ছবিটি নিজেই শেয়ার করেছেন সিয়াম। তিনি জানান, আপাতত সিনেমার মূল লুক প্রকাশ করা হচ্ছে না। ভক্তদের নানা প্রশ্নের কারণে চমক হিসেবে নায়িকার লুকটি সামনে আনা হয়েছে। সামনে পোস্টার, টিজার ও ট্রেলারে আরও নতুন চমক থাকবে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
‘রাক্ষস’ সিনেমার মাধ্যমে প্রথমবার বাংলাদেশের সিনেমায় অভিনয় করছেন কলকাতার অভিনেত্রী সুস্মিতা চ্যাটার্জি। ছবিতে তাকে দেখা যাবে একজন আধুনিক, শিক্ষিত ও উচ্চবিত্ত পরিবারের মেয়ের চরিত্রে। পরিচালক জানান, তার চরিত্রটি মূলত ড্রামা ও রোম্যান্টিক আবহে গড়া, কোনো অ্যাকশন দৃশ্যে তাকে দেখা যাবে না।
সিনেমার গল্প নিয়ে নির্মাতার ভাষ্য, ‘রাক্ষস’ অন্ধকার জগতের গল্প। এতে ভায়োলেন্স ও রাফ ন্যারেটিভ রয়েছে, যা দেশীয় সিনেমায় খুব একটা দেখা যায় না। বর্তমানে পুরো শুটিং ইউনিট শ্রীলঙ্কায় অবস্থান করছে। ছবির প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি ইউনিট ঢাকায় ফিরবে এবং ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে দেশের অংশের শুটিং শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। শুটিংয়ের পাশাপাশি সম্পাদনার কাজও এগিয়ে চলছে। রিয়েল এনার্জি কমিউনিকেশন প্রযোজিত সিনেমাটি ঈদুল ফিতরে মুক্তির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।



