আন্তর্জাতিক

উত্তর কোরিয়া রাশিয়ায় আরো সেনা মোতায়েন করেছে : সিউল

প্রবাহ ডেস্ক : উত্তর কোরিয়া রাশিয়ায় আরো সৈন্য পাঠিয়েছে এবং কুরস্কে ফ্রন্টলাইনে বেশ কয়েকজনকে পুনরায় মোতায়েন করেছে। সিউলের গোয়েন্দা সংস্থা এএফপি’কে এই কবর জানিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সিউলের গোয়েন্দা সংস্থা এএফপি’কে জানিয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়া এবং পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, গত বছর রাশিয়ার ১০ হাজারেরও বেশি সৈন্যকে কুরস্ক সীমান্ত অঞ্চলে ইউক্রেনীয়দের আকস্মিক আক্রমণ মোকাবেলায় সহায়তা করার জন্য রাশিয়ায় পাঠানো হয়েছিল। এই মাসের শুরুতে সিউল বলেছিল, উত্তর কোরিয়ার সৈন্যরা যারা পূর্বে কুরস্ক ফ্রন্টলাইনে রুশ সেনাবাহিনীর সাথে লড়াই করছিল তারা জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে যুদ্ধে জড়িত ছিল না। ইউক্রেন আরো বলেছে, ভারী ক্ষয়ক্ষতির পর তাদের প্রত্যাহার করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার, সিউলের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাদের সেখানে ‘পুনরায় মোতায়েন’ করা হয়েছে। এই কর্মকর্তা আরো বলেছেন, ‘কিছু অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের ঘটনা ঘটেছে বলে মনে হচ্ছে’। কর্মকর্তা বলেছেন ‘সঠিক কী পরিমাণ উত্তর কোরীয় সৈন্য মোতায়েন করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে’। মস্কো বা পিয়ংইয়ং কেউই সেনা মোতায়েনের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। কিন্তু গত বছর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন যখন পারমাণবিক অস্ত্রধারী উত্তর কোরিয়ায় বিরল সফর করেছিলেন, তখন দুই দেশ পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ধারাসহ একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। ইউক্রেন এরআগে বলেছে, তারা কুরস্কে বেশ কয়েকজন উত্তর কোরিয়ার সৈন্যকে বন্দি বা হত্যা করেছে। চলতি মাসে সিউলের চোসুন ইলবো সংবাদপত্র উত্তর কোরিয়ার একজন সৈন্যের একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে। সেখানে তারা ফ্রন্টলাইনে ‘প্রাণঘাতি’ লড়াইয়ের বর্ণনা দিয়েছে। দৃশ্যত আহত ওই সৈনিক সংবাদপত্রকে বলেছিলেন, তার অনেক সহকর্মী উত্তর কোরিয়ান সৈন্য ড্রোন এবং কামানের গোলাগুলিতে নিহত হয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমার সাথে যারা সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিল তারা সবাই মারা গেছে’। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর থেকে পিয়ংইয়ং এবং মস্কোর মধ্যে রাজনৈতিক, সামরিক এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরো গভীর হয়েছে। নববর্ষের এক চিঠিতে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন পুতিনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং ইউক্রেনের যুদ্ধের বিস্তারিত উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ২০২৫ সাল হবে ‘যে বছর রাশিয়ান সেনাবাহিনী এবং জনগণ নব্য-নাৎসিবাদকে পরাজিত করবে এবং একটি মহান বিজয় অর্জন করবে’। গত বুধবার, উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, কিম একটি প্রধান সামরিক একাডেমি পরিদর্শন করেছেন। এই সময় তিনি সৈন্যদের ‘আধুনিক যুদ্ধের প্রকৃত অভিজ্ঞতা’ কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button