আন্তর্জাতিক

ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ব্যাপক ড্রোন হামলা, শিশুসহ নিহত ৩

প্রবাহ ডেস্ক : রাশিয়ার চালানো বৃহৎ আকারের ড্রোন হামলায় ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ৫ বছরের এক শিশুসহ অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১০ জন। হামলায় বহুতল ভবনে অগ্নিকা-সহ শহরজুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গতকাল রোববার ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছেন রয়টার্স। প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো টেলিগ্রামে এক পোস্টে এই হামলাকে ‘কিয়েভে শত্রুর ব্যাপক ড্রোন হামলা’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, বিভিন্ন স্থানে অগ্নিকা- ও ক্ষয়ক্ষতির খবর পেয়ে জরুরি সেবা কর্মীদের পাঠানো হয়েছে। ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া রাতভর ১৪৭টি ড্রোন হামলা চালিয়েছে। যার মধ্যে ৯৭টি প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে এবং ২৫টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে ব্যর্থ হয়েছে। এই হামলার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে সৌদি আরবে ইউক্রেন, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার কূটনীতিকরা কৃষ্ণসাগরের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এদিকে ব্লুমবার্গ নিউজ সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের একটি শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত করতে চাইছে এবং ২০ এপ্রিলের মধ্যে একটি সামগ্রিক যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করছে। তবে উভয় পক্ষ এখনো একে অপরের ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে। ইউক্রেনের জরুরি পরিষেবা বিভাগ জানিয়েছে, কিয়েভের হোলোসিভস্কি জেলায় ধ্বংসস্তূপের মধ্যে থেকে এক শিশু ও এক পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যদিকে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ থেকে অগ্নিকা-ের ফলে ডনিপ্রোভস্কি জেলায় এক নারী নিহত হন। ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ড্রোন হামলায় কিয়েভে আরও আটজন আহত হয়েছেন। জরুরি পরিষেবার প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, বহুতল ভবনের একটি অ্যাপার্টমেন্ট সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে, একটি কক্ষের ছাদ ছিদ্র হয়ে গেছে এবং পোড়া আসবাবপত্র চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। কিয়েভের আঞ্চলিক গভর্নর মাইকোলা কালাশনিক জানিয়েছেন, রাজধানীর আশপাশের অঞ্চলেও বেশ কয়েকটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দুজন আহত হয়েছেন।
জেলেনস্কির আহ্বান: মস্কোর ওপর আরও চাপ প্রয়োজন
এ অবস্থায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে রুশ বাহিনী ১,৫৮০টিরও বেশি নিয়ন্ত্রিত বোমা, প্রায় ১,১০০টি আক্রমণাত্মক ড্রোন এবং ১৫টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তার ভাষায়, ‘আমাদের নতুন সমাধান দরকার। মস্কোর ওপর আরও চাপ প্রয়োগ করতে হবে যাতে তারা এসব হামলা এবং যুদ্ধ বন্ধ করে’।
রাশিয়ার কোনো মন্তব্য নেই
এদিকে এ হামলায় বিষয়ে এখনো পর্যন্ত রাশিয়ার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য আসেনি। তবে উভয় দেশই দাবি করে, তারা বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে না। গত শনিবার রাত থেকে পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে কিয়েভ এবং পূর্ব ইউক্রেনজুড়ে বিমান হামলার সতর্কতা জারি ছিল।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button