আন্তর্জাতিক

উত্তর কোরিয়া রাশিয়ায় আরো ৩ হাজার সৈন্য পাঠিয়েছে : সিউল

প্রবাহ ডেস্ক : উত্তর কোরিয়া এই বছর রাশিয়ায় অতিরিক্ত ৩ হাজার সৈন্য পাঠিয়েছে এবং কিয়েভের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মস্কোকে সাহায্য করার জন্য এখনও ক্ষেপণাস্ত্র, কামান এবং গোলাবারুদ সরবরাহ করছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সিউলের সামরিক বাহিনী একথা জানিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়া এই বছর ইউক্রেনে মস্কোর যুদ্ধের জন্য রাশিয়ায় অতিরিক্ত ৩ হাজার সেনা পাঠিয়েছে। সিউল থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়। ২০২২ সালে ইউক্রেনে মস্কোর আক্রমণের পর থেকে ঐতিহ্যবাহী মিত্র রাশিয়া এবং উত্তর কোরিয়া আরো ঘনিষ্ঠ হয়েছে। সিউল নেতা কিম জং উনকে মস্কোকে সাহায্য করার জন্য হাজার হাজার সৈন্য এবং অস্ত্রের কন্টেইনার পাঠানোর অভিযোগ করেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি বার্তা সংস্থা ‘ইয়োনহাপ’ এই খবর জানিয়েছে। এদিকে মস্কো বা পিয়ংইয়ং কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে সেনা মোতায়েনের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। তবে গত বছর রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন যখন উত্তর কোরিয়ায় বিরল সফর করেছিলেন, তখন উভয় দেশ একটি বিশাল সামরিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল। যার মধ্যে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতার কথাও ছিল। উত্তর কোরিয়ার বার্তা সংস্থা ‘কেসিএনএ’ এই খবর জানায। দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফ বলেছেন, ‘জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে অতিরিক্ত ৩ হাজার সেনা পাঠানো হয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে’। ইয়োনহাপের খবরে একথা বলা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, রাশিয়ায় পাঠানো প্রাথমিক ১১ হাজার উত্তর কোরিয়ার সৈন্যের মধ্যে ৪ হাজার নিহত বা আহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। জেসিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘জনবলের পাশাপাশি, উত্তর কোরিয়া ক্ষেপণাস্ত্র, কামান সরঞ্জাম এবং গোলাবারুদ সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে’। এতে বলা হয়েছে, ‘এখন পর্যন্ত এটি মূল্যায়ন করা হয়েছে, উত্তর কোরিয়া উল্লেখযোগ্য পরিমাণে স্বল্প-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, পাশাপাশি প্রায় ২২০ ইউনিট ১৭০ মিমি স্বয়ংক্রিয় বন্দুক এবং ২৪০ মিমি মাল্টিপল রকেট লঞ্চার সরবরাহ করেছে’। এটি সতর্ক করে দিয়েছিল, ‘যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে এই সংখ্যাগুলো আরো বাড়তে পারে’। গত বছর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে উত্তর কোরিয়া বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, পারমাণবিক অস্ত্রধারী উত্তর কোরিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য রাশিয়ায় রপ্তানির জন্য অস্ত্র পরীক্ষা করতে পারে। গতকাল বৃহস্পতিবার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে যে কিম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি সম্বলিত নতুন আত্মঘাতী এবং গোয়েন্দা ড্রোনের পরীক্ষা তদারকি করেছেন। কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) জানিয়েছে, নতুন কৌশলগত গোয়েন্দা ড্রোনটি ‘স্থল ও সমুদ্রে বিভিন্ন কৌশলগত লক্ষ্যবস্তু এবং শত্রু সৈন্যদের কার্যকলাপ ট্র্যাক এবং পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম’। কেসিএনএ অনুসারে, আত্মঘাতী ড্রোনগুলো ‘বিভিন্ন কৌশলগত আক্রমণ মিশনের জন্য ব্যবহারের জন্য’ আক্রমণাত্মক ক্ষমতাও প্রদর্শন করেছে। কিম ‘নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রবর্তনের মাধ্যমে কৌশলগত গোয়েন্দা ড্রোন এবং আত্মঘাতী হামলার ড্রোন’-এর উন্নত কর্মক্ষমতা মূল্যায়ন করেছেন। কেসিএনএ জানিয়েছে, তিনি ‘উৎপাদন ক্ষমতা সম্প্রসারণের’ একটি পরিকল্পনায়ও সম্মত হয়েছেন। গত আগস্টে পিয়ংইয়ং তাদের আক্রমণাত্মক ড্রোন উন্মোচন করে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে এই অঞ্চলে নতুন সক্ষমতা রাশিয়ার সাথে উত্তর কোরিয়ার উদীয়মান জোটের জন্য দায়ী হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা আরো সতর্ক করেছেন, রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধ করতে প্রেরিত উত্তর কোরিয়ার সৈন্যরা আধুনিক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা অর্জন করবে, যার মধ্যে যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন কীভাবে ব্যবহার করা হয় তাও অন্তর্ভুক্ত। উত্তর কোরিয়ান স্টাডিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি ইয়াং মু-জিন এএফপি’কে বলেন, উত্তর কোরিয়া এখন ‘ড্রোনের মতো মানবহীন অস্ত্র ব্যবস্থার ওপর মনোযোগ দিচ্ছে, কারণ এটি মূলত তাদের পাঁচ বছরের প্রতিরক্ষা উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ’। ২০২৪ সালে উত্তর কোরিয়া দাবি করেছিল, দক্ষিণ কোরিয়া পিয়ংইয়ংয়ের ওপর দিয়ে ড্রোন পাঠিয়েছে, যা সিউলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অস্বীকার করেছে। এরসাথে রাশিয়ার সাথে যুদ্ধরত উত্তর কোরিয়ার সৈন্যদের ড্রোন হামলার অভিজ্ঞতার মিলিত ফলাফল, ‘সম্ভবত চেয়ারম্যান কিম জং উন এই ড্রোন অস্ত্র ব্যবস্থাগুলো দ্রুত সম্পন্ন করার তাগিদ অনুভব করেছেন’। ইয়াং বলেন, এর জন্য পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি এবং তহবিলের প্রয়োজন হবে এবং ‘রাশিয়ার কিছু প্রযুক্তিগত সক্ষমতা রয়েছে তা বিবেচনা করে, আমরা ধরে নিতে পারি যে সৈন্য প্রেরণের অনুপ্রেরণার একটি অংশ হতে পারে সেই প্রযুক্তিতে অ্যাক্সেস অর্জন করা’। জেসিএস রিপোর্টটি কিম কর্তৃক আক্রমণাত্মক ড্রোনের ‘ব্যাপক উৎপাদন’ করার নির্দেশ দেওয়ার চার মাস পরে এসেছে, যা বিস্ফোরক বহন করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে শত্রুর লক্ষ্যবস্তুতে বিধ্বস্ত করা হয়েছে, যা কার্যকরভাবে নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে কাজ করে। ২০২২ সালে পিয়ংইয়ং সীমান্তের ওপারে ড্রোন পাঠিয়েছিল, কিন্তু সিউলের সামরিক বাহিনী সেগুলোকে গুলি করে ভূপাতিত করতে পারেনি, কারণ তারা বলেছিল যে এগুলো খুব ছোট।

ছবি : ০৪
বিশ্বে ১ কোটি ৪০ লাখ শিশু অপুষ্টির মুখে, আছে মৃত্যুঝুঁকি: ইউনিসেফ
প্রবাহ ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের মতো প্রধান আন্তর্জাতিক দাতারা সাহায্য বাজেট কমিয়ে দেওয়ার ফলে চলতি বছর কমপক্ষে ১ কোটি ৪০ লাখ শিশু ক্ষুধার্ত এবং অপুষ্টি বা মৃত্যুর ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের বিশেষ সংস্থা ইউনিসেফ। গত বুধবার জাতিসংঘের শিশু সংস্থা বিভিন্ন দেশের সরকার এবং জনহিতকর প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্ভিক্ষের ঢেউ ঠেকাতে শিশু পুষ্টি তহবিলে অবদান রাখার আহ্বান জানিয়েছে। দুই মাস আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকে তার বিলিয়নিয়ার উপদেষ্টা ইলন মাস্কের ডিপার্টমেন্ট অফ গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি ইউএসএআইডি সংস্থাটিকে ধ্বংস করে দিয়েছেন। একজন বিচারক এই প্রচেষ্টা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন, কিন্তু পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও নিশ্চিত করেছেন, ইউএসএআইডি তার ৪২ বিলিয়ন ডলারের বাজেট থেকে ৮৩ শতাংশ কর্মসূচি বাতিল করছে। ব্রিটেনের মতো অন্যান্য প্রধান দাতা দেশগুলো সম্প্রতি প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি ঘাটতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সাহায্য কমিয়ে দিয়েছে বা স্থগিত করেছে। ইউনিসেফ সতর্ক করেছে, তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে এমন ২ দশমিক ৪ মিলিয়ন শিশু বছরের বাকি সময় ইউনিসেফের ‘ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত থেরাপিউটিক খাবার’ থেকে বঞ্চিত হবে। ক্ষুধার্ত শিশুদের জন্য জরুরি সেবা প্রদানকারী ২ হাজার ৩০০টি কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং ইউনিসেফ-সমর্থিত ২৮ হাজার খাদ্য কেন্দ্রও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সব মিলিয়ে এই বছর ১ কোটি ৪০ লাখ শিশু পুষ্টি সহায়তা এবং পরিষেবায় ব্যাঘাতের সম্মুখীন হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button