পাকিস্তানের বাজেটে কৃষি সংকট দূর করার চেষ্টা

প্রবাহ ডেস্ক : পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ দৃশ্যত কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন যে আইএমএফ সম্প্রতি ঘোষিত বাজেটে সার ও কীটনাশকের ওপর নতুন কর আরোপ থেকে পাকিস্তানের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেনি। সম্প্রতি মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে তিনি বলেন, আমরা স্পষ্ট করে দিয়েছিলাম যে কৃষিখাতে বিশেষ করে সার ও কীটনাশকের ওপর কর আরোপ করব না, কারণ এই খাত ইতিমধ্যেই সংকটে রয়েছে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, আইএমএফ সারের ওপর ফেডারেল এক্সাইজ ডিউটি ৫ শতাংশ থেকে দ্বিগুণ করে ১০ শতাংশ করার পাশাপাশি কীটনাশকের ওপর ৫ শতাংশ কর আরোপের দাবি করেছিল। এই দুটি কর প্রয়োগে সরকারের রাজস্ব আদায় হতো ৩০ থেকে ৪০ বিলিয়ন রুপি, তবে এর ফলে কৃষকদের, বিশেষ করে ক্ষুদ্র কৃষকদের উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেত। পাকিস্তানে শিল্পখাত নানা সংকটে পতিত হওয়ায় আগামী অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি আংশিকভাবে কৃষিখাতের পুনরুদ্ধারের ওপর নির্ভর করছে। সরকার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ৪.২ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যা অর্জন অসম্ভব হবে যদি কৃষিভিত্তিক খাত ৪.৪ শতাংশ এবং ফসল খাত ৪.৫ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি না পায়। পাশাপাশি বৃহৎ শিল্প উৎপাদন খাতে ৩.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দরকার। কৃষিখাত দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং গ্রামীণ জীবিকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি জাতীয় জিডিপির ২৩.৫ শতাংশ এবং শ্রমশক্তির ৩৭ শতাংশের বেশি কর্মসংস্থান সরবরাহ করে। এই বাস্তবতায় কৃষির প্রকৃত সম্ভাবনা কাজে লাগানো অত্যন্ত জরুরি। উৎপাদন খরচ কমানো, যান্ত্রিকীকরণ ও আধুনিক সেচ প্রযুক্তি প্রসার, সহজ শর্তে কৃষিঋণ প্রদান এবং উচ্চফলনশীল নতুন জাতের বীজ উন্নয়নের ওপর জোর দিতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গম বাজার থেকে সরে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে কৃষি পুনরুজ্জীবন ও ক্ষুদ্র কৃষকদের টিকিয়ে রাখতে এগুলো অপরিহার্য। আইএমএফ-এর পক্ষ থেকে কৃষকদের যে ‘স্বস্তি’ দেওয়া হয়েছে, তা প্রমাণ করে যে কঠোর শর্ত আরোপ না করেও তারা সন্তুষ্ট থাকতে পারে, যদি সরকার একটি বিশ্বাসযোগ্য রাজস্ব আদায় পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়। এর অর্থ হলো করের আওতা সম্প্রসারণ এবং যেসব খাত এখনও পর্যাপ্তভাবে কর দেয় না — যেমন খুচরা ব্যবসায়ী, রিয়েল এস্টেট, বড় কৃষক, ডাক্তার-আইনজীবীদের মতো পেশাজীবীদের কাছ থেকেও কর আদায় করতে হবে। অথচ শাসক দল পিএমএল-এন-এর ভেতর থেকেই এ বিষয়ে প্রবল প্রতিরোধ দেখা যাচ্ছে, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। রাষ্ট্রের পক্ষে টিকে থাকা সম্ভব নয় যদি না সব শ্রেণির মানুষ আয়ের উৎস নির্বিশেষে কর প্রদান করে। এই পদক্ষেপে দেরি করা আত্মঘাতী হতে পারে। সূত্র : ডন।



