আন্তর্জাতিক

মিশর সীমান্ত দিয়ে গাজায় ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশ শুরু

এফএনএস বিদেশ : গাজা উপত্যকার কিছু অংশে যুদ্ধবিরতি বা দকৌশলগত বিরতি‘ ঘোষণা করেছে ইসরায়েল। এরপরই গতকাল রোববার সকাল থেকে মিশর সীমান্ত দিয়ে গাজায় ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশ করতে শুরু করেছে। ইসরায়েল জানিয়েছে, মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুবিধার জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। খবর এএফপির। মিশরের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমেও সীমান্ত এলাকায় ত্রাণবহরের চলাচলের খবর নিশ্চিত করে ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। তবে রাফাহ সীমান্ত পার হওয়া ট্রাকগুলো সরাসরি গাজায় ঢুকতে পারছে না। কারণ গত বছর এই সীমান্তের ফিলিস্তিনি অংশ দখল করে নেয় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। একই সঙ্গে এই অঞ্চলটি বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে ট্রাকগুলোকে কয়েক কিলোমিটার ঘুরে ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত কেরেমা শালম (কারাম আবু সালেম) সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করতে হচ্ছে। সেখানে ইসরায়েলি সেনারা ট্রাকগুলো তল্লাশি করার পর দক্ষিণ গাজায় ঢোকার অনুমতি দিচ্ছে। এএফপির ছবিতে দেখা গেছে, সাদা বস্তা বোঝাই বড় আকারের ট্রাকগুলো রাফাহ গেটের মিশরীয় পাশ দিয়ে ঢুকছে। কিছু ট্রাকে মিশরের রেড ক্রিসেন্টের লোগো ছিল, আবার কিছু ট্রাকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পতাকা দেখা গেছে। সেগুলোতে লেখা ছিল- সংযুক্ত আরব আমিরাত – গাজার জন্য মানবিক সহায়তা – গাজায় পানি সহায়তা প্রকল্প। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলা এই দকৌশলগত বিরতি’ কেবল নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় কার্যকর থাকবে। এর মধ্যে আল-মাওয়াসি, দেইর এল-বালাহ ও গাজা সিটির কিছু অংশ রয়েছে। এই এলাকাগুলোতে এখন ইসরায়েলি সেনারা অভিযান চালাচ্ছে না। তারা আরও জানিয়েছে, জাতিসংঘ এবং অন্যান্য ত্রাণবহরের সুবিধার জন্য গাজার বিভিন্ন স্থানে সুরক্ষিত পথ খোলা হয়েছে। গাজার ভয়াবহ ক্ষুধা সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ায় এই পদক্ষেপ নিয়েছে ইসরায়েল। এর আগে আকাশপথেও খাদ্য সরবরাহ শুরু করার ঘোষণা দিয়েছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাজ্য। তবে মানবিক সহায়তা কর্মীরা এখনও পুরোপুরি আশাবাদী নন। জাতিসংঘের ত্রাণ সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএর প্রধান ফিলিপ লাজারিনি সতর্ক করে বলেন, আকাশপথে ত্রাণ সরবরাহ অনেক ব্যয়বহুল এবং এটি খুব বেশি কার্যকর নয়। ইসরায়েল অবশ্য জোর দিয়ে বলছে, তারা ত্রাণ সরবরাহে কোনো বাধা দিচ্ছে না। কিন্তু সংস্থাগুলো ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে ত্রাণ পৌঁছানোর পথ বন্ধ করা এবং বিতরণ কেন্দ্রগুলোর কাছে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করার অভিযোগ তুলেছে। গত শনিবার গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা জানায়, এদিন ইসরায়েলি হামলা ও গুলিতে ৫০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যাদের মধ্যে কিছু লোক ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রের কাছে সাহায্যের জন্য অপেক্ষা করছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button