আন্তর্জাতিক

তীব্র হচ্ছে এল নিনো, চরম তাপপ্রবাহ, বন্যা ও খরার সতর্কবার্তা দিল জাতিসংঘ

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ বিশ্বজুড়ে আগস্ট থেকে অক্টোবরের মধ্যে শক্তিশালী এল নিনো’র প্রভাব আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চরম ভাবাপন্ন আবহাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)। আবহাওয়ার এই বিশেষ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক তাপমাত্রা গড়ের চেয়ে বৃদ্ধি, বৃষ্টিপাতের ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তন এবং গ্রীষ্মম-লীয় আটলান্টিক মহাসাগরের পৃষ্ঠে অস্বাভাবিক উষ্ণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ডব্লিউএমওর মতে, গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ এলাকাগুলোতে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার তারতম্য ২.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা একটি শক্তিশালী এল নিনোরই স্পষ্ট ইঙ্গিত। সংস্থাটি বলছে, এই আগাম পূর্বাভাসের ফলে বিভিন্ন দেশের সরকার ও সাধারণ মানুষ সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলার জন্য মূল্যবান সময় পাবে। আগাম পরিকল্পনা এবং ঝুঁকি হ্রাসের পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমেই বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, তীব্র তাপপ্রবাহ, ভয়াবহ দাবানল এবং মহাসাগরের রেকর্ডভাঙা তাপমাত্রাই প্রমাণ করে যে এল নিনো আমাদের এই অতি-উষ্ণ গ্রহের পরিস্থিতি আরও কতটা খারাপ করে তুলছে। এতে করে ভয়াবহ বন্যা ও খরার মুখোমুখি হতে পারে বিশ্ব। তিনি মনে করেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অব্যাহত নির্ভরতাই মূলত জলবায়ু সংকটকে ত্বরান্বিত করছে। কয়লা, তেল এবং গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি ভবিষ্যতের ঝুঁকি আরও বাড়াবে বলেও সতর্ক করেন তিনি। এ অবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে রক্ষা করতে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মূল কারণগুলো মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার জোর আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব। ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো জোর দিয়ে বলেন, এল নিনো বিশ্বের অন্যতম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা জলবায়ুগত ঘটনা হলেও, শুধু পূর্বাভাস দিয়ে কখনো দুর্যোগ ঠেকানো যায় না। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান এল নিনোর প্রভাব এমন এক সময়ে দেখা যাচ্ছে যখন মহাসাগরের উষ্ণতা এবং বৈশ্বিক তাপমাত্রা নজিরবিহীনভাবে বাড়ছে। তাই আগাম প্রস্তুতির বিষয়টি এখন অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, সময়োপযোগী ও নির্ভরযোগ্য জলবায়ু তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন দেশের সরকার, মানবিক সংস্থা এবং কৃষি ও স্বাস্থ্য খাতের মতো জরুরি বিভাগগুলো চরম আবহাওয়ার ক্ষতিকর প্রভাব কমিয়ে আনতে পারে এবং এতে করে মারাত্মক ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীকে রক্ষা করা সহজ হবে। সূত্র: ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশ।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button