মাশরুম চাষ জনপ্রিয় হলে তা অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে : মহাপরিচালক

স্টাফ রিপোর্টারঃ মাশরুম চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র হ্রাস করণ প্রকল্পের আওতায় শনিবার বেলা ১১ টায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনার আয়োজনে খুলনা বিশ^দ্যিালয়ের একাডেমিক ভবন-১ এর অডিটোরিয়ামে আঞ্চলিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় মাশরুমের গুরুত্ব ও উৎপাদন কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ঢাকা খামার বাড়ি মহা-পরিচালক কৃষিবিদ বাদল চন্দ্র বিশ্বাস। বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ঢাকার পরিকল্পনা, প্রকল্প বাস্তবায়ন ও আইসিটি উইং পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ রেজাউল করিম, কৃষিবিদ ড: এম এ মান্নান, ড: শামীম আহম্মেদ খাঁন । কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মোহন কুমার ঘোষ। প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি বলেন, মাশরুম চাষের মাধ্যমে কৃষি জমি সংরক্ষণ করে শস্য বহুমুখীকরণের পাশাপাশি মানসম্মত ও পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদন, জমির উলম্বিক ব্যবহার, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পরিবেশ সংরক্ষণ সম্ভব। মাশরুম চাষ সম্প্রসারণ ও জনপ্রিয় হলে তা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পরিবেশ বান্ধব ও প্রাকৃতিক দুর্যোগসহনশীল এই ফসলের চাষ বেকারত্ব ও পুষ্টিহীনতা হ্রাসের পাশাপাশি মহিলাদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে। এছাড়া আমাদের দেশের বেশিরভাগ কৃষক হচ্ছে ক্ষুদ্র, প্রান্তিক এবং ভূমিহীন। তাঁদেরকে মাশরুম চাষে সম্পৃক্ত করতে পারলে কর্মসংস্থান ও আয়ের পথ তৈরি হবে। “মাশরুম চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র্য হ্রাসকরণ” প্রকল্পটি দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি। ভূমিহীন মানুষও মাশরুম চাষ করতে পারেন। মাশরুম চাষে অল্প দিনেই ফলন পাওয়া যায় এবং লাভসহ পুঁজি ঘরে আসে। তাই দারিদ্র্য দূরীকরণে মাশরুম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।সর্বোপরি প্রশিক্ষণ নিয়ে যে কেউ শুরু করতে পারেন এই মাশরুম চাষ। টেকসই আধুনিক মাশরুম চাষ পদ্ধতি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে দেশপোযোগী উপযুক্ত প্রযুক্তি আহরণ, উদ্ভাবন, ব্যাপক প্রচার প্রচারণা, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে চাষী, উদ্যোক্তা ও সম্প্রসারণ কর্মীদের দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে প্রকল্পটি এর কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জন করবে বলে আমি আশা করি। কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য উপস্থাপন করেন মাশরুম প্রকল্পের পরিচালক ড: মোছা: আকতার জাহান কাঁকন। এ সময় দিকনির্দেশনা মূলক বক্তব্য রাখেন প্রফেসার রেজাউল ইসলাম, ডক্টর শফিকুল ইসলাম, কৃষিবিদ এস এম ফেরদাউস, ড: সরোয়ার জাহানসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক বিভাগের প্রতিনিধি, হোটেল, রেস্তোরা শপিং মল প্রতিনিধিগণ ও ফাস্টফুড ব্যবসায়ীবৃন্দ এবং মাশরুম চাষী উদ্যোক্তারা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনা খামারবাড়ি উপ-পরিচালক কৃষিবিদ কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন,খুলনা হর্টিকালচার উপ-পরিচালক কৃষিবিদ সঞ্জয় কুমার দাস, এডিডি উদ্যান কৃষিবিদ মহাদেব চন্দ্র সানা, লবণ চোরা মেট্রোপলিটন কৃষি অফিসার কৃষিবিদ ফরহা দিবা শামস্, দৌলতপুর মেট্রোপলিটন কৃষি অফিসার কৃষিবিদ শামীম আরা নিপা, দৌলতপুর হর্টিকালচার উদ্যান কর্মকর্তা সুজিত মন্ডলসহ মাশরুম প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী প্রশিক্ষণার্থী ও বিভিন্ন পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাবৃন্দ।



