স্থানীয় সংবাদ

কাউন্টারের পর এবার খুমেক হাসপাতালে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স রাখার গ্যারেজ

বাস টার্মিনালের রূপে খুমেক হাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্স চালকদের কাছে অসহায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ # কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করলেই পুলিশ এ্যাকশানে যাবে বললেন পুলিশ কমিশনার

কামরুল হোসেন মনি ঃ খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে সংঘবদ্ধ অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের কাছে অসহায় অসুস্থ রোগীরা সাথে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও। দুই সপ্তাহ ধরে হাসপাতালের মধ্যে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স কাউন্টারও বসানো হয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতালের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে সারিবদ্ধ ভাবে রাখা হয়েছে অ্যাম্বুলেন্সগুলো। দুর থেকে দেখে মনে হবে হাসপাতালটি অ্যাম্বুলেন্স রাখার গ্যারেজের জন্য তৈরি হয়েছে। এদিকে বিষয়টি নিয়ে খুমেক হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ তাদের কাউন্টার সরানো ও হাসপাতালের মধ্যে অ্যাম্বুলেন্স রাখতে নিষেধ করলেও মানছে না তারা। যে কারণে খুমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নির্বিকার ও অসহায় এসব অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের কাছে। পাশাপাশি হাসপাতালের দায়িত্বরত কিছু অসাধু কর্মচারীদের সহায়তায় ও স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় যেন এসব অ্যাম্বুলেন্স চালকেরা এখন নিয়ন্ত্রণহীন। এদের নিয়ন্ত্রণে আছে ৮০-১০০ টি অ্যাম্বুলেন্স। খুলনা জেলা এ্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমিতি লি: পরিচালিত, এ্যাম্বুলেন্স কাউন্টার পরিচালনা করা হচ্ছে। যার কোন রেজিস্টেশন নেই। এ ব্যাপারে কেএমপি পুলিশ কমিশনার মোঃ মোজাম্মেল হক, বিপিএম পিপিএম-সেবা বলেন, বিষয়টি আমরা বেশ কিছুদিন পত্র পত্রিকার মাধ্যমে লক্ষ করছি কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে কিছুই জানায়না। তারা অসহায় বোধ করছে বললে তিনি বলেন অসহায় হলে আছেন কেন ওনারা। চলে যান না কেন? এরপরও বিষয়টি আমরা দেখবো। গতকাল রোববার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, হাসাপাতালের মোটরসাইকেল রাখার গ্যারেজের পাশে টেবিল বসিয়ে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স কাউন্টার খোলা হয়েছে। টেবিল ঘিরে রয়েছে অ্যাম্বুলেন্স চালকদের ভিড়। এর আগে কাউন্টারটি ছিলো হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে নবনির্মিত গ্যারেজের মধ্যে। ভুক্তভোগী রোগীর স্বজন আবুল কালাম বলেন, আমাদের বাড়ি রূপসা। আমার মামা অসুস্থ ছিল তাকে বাড়িতে নেওয়ার জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্স প্রয়োজন ছিল। হাসপাতালের মধ্যে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স কাউন্টারের চালকরা বেশি অর্থ দাবি করায় আমি আমার এক ছোট ভাইয়ের মাধ্যমে অন্য জায়গা থেকে কম ভাড়ায় একটি অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে এলে আমাদের গাড়িতে রোগীকে বাহিরের কোনো অ্যাম্বুলেন্স তুলতে দেবে না বলে জানিয়ে দেয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালে চাকুরিরত কয়েকজন বলেন, হাসপাতালের জন্মলগ্ন থেকে এইভাবে হাসপাতালের মধ্যে অ্যাম্বুলেন্স কাউন্টার, হাসপাতালে চারপাশে সারি সারি ভাবে অ্যাম্বুলেন্স রাখা কোন দিনও দেখিনি। এর আগেও অনেক হাসপাতালের পরিচালক আসছেন, তাদের সময়ও এরকম এই নৈরাজ্য দেখিনি। ওই সূত্রটি জানায়, এখানে অ্যাম্বুলেন্স চালকেরা খুবই বেপোরোয়া। এদের একটি বড় সিন্ডিকেট আছে। এমনকি নিজেরা জায়গা বুঝে ভাড়াও নির্ধারণ করে রাখে। এর থেকে কম কোনো চালক নিলে তার বিরুদ্ধে চলে যায় অন্য সব চালক। এ ছাড়া হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডের কর্মচারী, ওয়ার্ডবয় বা আয়াদের সঙ্গে এদের একটি শতকরা ২০% কমিশন চুক্তি থাকে। এরা রোগীদের অ্যাম্বুলেন্স ট্রিপ পাইয়ে দিলে নগদ কমিশন পেয়ে যায়। হাসপাতালের একজন ওয়ার্ডবয় এর নিজের বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স আছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খুমেক হাসপাতালে জরুরি বিভাগ থেকে শুরু করে হাসপাতাল চত্বর ঘিরে অপেক্ষমান প্রায় শতাধিক এম্বুলেন্স রয়েছে। খুমেক হাসপাতালে রোগীদের জন্য ৫০০ শয্যার ব্যবস্থা থাকলেও প্রতিদিন চিকিৎসাধীন থাকে ১২শ’ থেকে ১৫শ’র মতো রোগী। এসব অসুস্থ রোগীর ছাড়পত্র পাওয়া বাড়িতে যাওয়া বা জরুরিভিত্তিতে ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন হয় অ্যাম্বুলেন্স। তবে দেখা যায় অধিকাংশ এম্বুলেন্স পুরাতন মডেলের মাইক্রোবাসগুলোর ভিতরে সিট কেটে আর বাহিরে লাল রং দিয়ে এম্বুলেন্স লিখেও উপরে একটি জরুরি হুইসেল বাতি স্থাপন করে বানিয়ে ফেলেছেন রোগী পরিবহন অ্যাম্বুলেন্স।
এ ব্যাপারে খুমেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা: মো: হুসাইন শাফায়াত এ প্রতিবেদককে বলেন, বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স কয়েকজন চালকদের তাদের কাউন্টার ও হাসপাতালের মধ্যে অ্যাম্বুলেন্স না রাখার জন্য তাদেরকে বলে দিছি। কিন্তু তারা এখন মানছেন না। বিষয়টি নিয়ে আমি আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় এবং পুলিশের উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে অবগত করবো।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button