খুলনার সর্বত্র বইছে ঈদের আমেজ!

নগরজুড়ে ঈদগাহ্ সাজ সজ্জার প্রস্তুতি, কেসিসি মেয়রের ঈদগাহ্ পরিদর্শন
শেষ সময়ে কোরবানীর পশু কেনাকাটায় ব্যস্ত নগরবাসী
মো. আশিকুর রহমান ঃ ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি। মাত্র এক দিন পরেই মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবের মধ্যে ঈদুল আযহা অনুষ্ঠিত হবে। সোমবার (১৭ জুন) সারাদেশের দেশের মতো খুলনায় ধর্মীয় ভাবগার্ম্ভীযের সাথে উদ্যাপিত হতে যাচ্ছে ঈদুল আযহা। আল্লাহ তালায় নিকট্য লাভের আশায় ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে মুসলমানের পশু কোরবানীর মধ্যে পালিত হবে এই বৃহৎ উৎসব। তাই আসন্ন ঈদকে ঘিরে গোটা নগরী এখন আনন্দের জোয়ারে ভাসছে, একই স্থানীয় পাড়া-মহল্লায়ও বইছে ঈদের আনন্দ। নগরীর ঐতিহ্যবাহি খুলনা সার্কিট হাউজ ঈদগাহ্ ময়দানসহ নগরীর স্থানীয় এলাকায় আসন্ন ঈদের নামায আদায়ের জন্য ঈদগাহ্ সাজ-সজ্জা প্রস্তুতির কাজ চলছে। ইতোমধ্যে, শনিবার (১৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টায় খুলনার সার্কিট হাউজ ময়দান ঈদগাহ্ পরিদর্শনে পরিদর্শন করেন কেসিসি মেয়র আলহাজ¦ তালুকদার আব্দুল খালেক, কেএমপি পুলিশ কমিশনার মো. মোজাম্মেল হকসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। অপর দিকে শেষমূহুর্তে কোরবানী পশু কিনতে ব্যস্ত সময় পার করছেন এখন নগরবাসী। ইতোমধ্যে জমে উঠেছে খুলনার ঐহিত্যবাহি কোরবানীর জোড়াগেটের পশুরহাট। এছাড়া নগরী মধ্যে বেশ কয়েকটি পশুহাটসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলো কোরবানী পশু কেনাবেচায় সরগরম। কোরবানীর পশু কিনতে পশু হাট গুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সমাগমে মুখরিত হয়ে উঠেছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ন ঈদগাহ্ সহ স্থানীয় অঞ্চলের পাড়া-মহল্লার ঈদগাহ্, মসজিদ গুলোর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঈদগাহ বা মসজিদ সাজ-সজ্জার কাজে এখন চরম ব্যস্ত সময় পার করছে। খোলা ময়দানে প্রখর রোদ হতে মুক্তি পেতে চলছে প্যান্ডেল তৈরীর কাজ, সাথে দৃষ্টি নর্দন আকর্ষনীয় গেট স্থাপন সহ আলোকসজ্জার কাজের প্রস্তুতি। ইতিমধ্যে খুলনা জেলা প্রশাসন সভা কক্ষে, খুলনার প্রধান ও প্রথম ঈদ-উল- আজহার জামাত সার্কিট হাউজ ময়দানে সকাল ৮টায় এবং আবহাওয়া প্রতিকূল থাকলে প্রথম ও প্রধান জামাত সকাল ৮টায় খুলনা টাউন জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় জামাত সকাল ৯ টায় এবং তৃতীয় জামাত সকাল ১০ টায় টাউন জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া সকাল সাড়ে ৭টায় খুলনা আলিয়া মাদ্রাসার মডেল মসজিদে ঈদের অনুষ্ঠিত হবে। খুলনা প্রধান জামাত বাস্তবায়নে সার্কিট হাউজ ময়দানে ঈদ্গাহ প্রস্তুতির কাজ চলমান রয়েছে। একই সাথে নগরীর ডাকবাংলা, শিববাড়ি, সোনাডাঙ্গা, নিরালা, জিরোপয়েন্ট, রুপসা, বানিয়াখামার, সাচিবুনিয়া, জোড়াগেট, বয়রা, বৈকালি, বাস্তহারা, আলমনগর, খালিশপুর, নতুনরাস্তা, পাবলা, দৌলতপুর, দেয়ানা, আড়ংঘাটা, গাইকুড়, ইস্পাহী কোলনী, মধ্যডাঙ্গা, পালপাড়া, রেলিগেট, মানিকতলা, কালিবাড়ী, রানার মাঠ, তেলিগাতি, ফুলবাড়ীগেট, কুয়েট, শিরোমনি, আটরা, গিলাতলা, ডাক্তারবাড়ী, আলিম গেট, দামোদর, ফুলতলা সহ স্থানীয় এলাকার ঈদগাহ্ সহ মসজিদ গুলোতে সমানে চলছে সাজ সজ্জার প্রস্ততির কাজ। কেসিসি’র বিদ্যুৎ শাখার সহকারি প্রকৌশলী জানান, কেসিসির সংশ্লিষ্ট বিভাগ খুলনার প্রধান ঈদের জামাতের ঈদগাহ্ ময়দান সার্কিট হাউজসহ টাউন জামে মসজিদ, খালিশপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ্ ময়দানে, ইসলামাবাদ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ্ ময়দানে প্রয়োজনের তুলনায় সাউন্ড সিস্টেম (মাইক সরবরাহ) থাকবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্ধারিত সকল প্রস্তুতিই সম্পন্ন করবে সংশ্লিষ্ট বিভাগ। কেসিসি’র নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মো. আব্দুল আজিজ জানান, ঈদগাহ্ প্রস্তুতির জন্য যান্ত্রিক বিভাগ হতে সার্কিট হাউজের ঈদগাহ্ ময়দান সমান করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ওই কাজ সম্পন্ন করার জন্য সহয়তা করবে। কেসিসি’র প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান জানান, কেসিসির পক্ষ হতে খুলনার প্রধান ঈদের জামাতের ঈদগাহ্ ময়দান সার্কিট হাউজ মাঠের সার্বিক সাজ সজ্জার প্রস্তুতিসহ টাউন জামে মসজিদ, খালিশপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ্ ময়দান, ইসলামাবাদ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ্ ময়দায়, খানজাহান আলী সেতুর নিচে (রুপসা ব্রীজ), টুটপাড়া মসজিদ মিশন ঈদগাহ্, খুলনা আলিয়া মাদ্রাসা, কেসিসি’র ৫নং ওয়ার্ডসহ ৩১নং ওয়ার্ডের হাজী মালেক ঈদগাহ ময়দানে প্রস্ততির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে, শনিবার (১৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টায় খুলনার সার্কিট হাউজ ময়দান ঈদগাহ্ পরিদর্শনে পরিদর্শন করেন কেসিসি মেয়র আলহাজ¦ তালুকদার আব্দুল খালেক, কেএমপি পুলিশ কমিশনার মো. মোজাম্মেল হকসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সকল প্রস্তুতিই সম্পন্ন হবে বলে জানান তিনি। খুলনা জেলা প্রশাসন খন্দকার ইয়াসির আরেফীন জানান, খুলনার প্রধান ও প্রথম ঈদ-উল- আজহার জামাত সার্কিট হাউজ ময়দানে সকাল ৮টায় এবং আবহাওয়া প্রতিকূল থাকলে প্রথম ও প্রধান জামাত সকাল ৮টায় খুলনা টাউন জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় জামাত সকাল ৯ টায় এবং তৃতীয় জামাত সকাল ১০ টায় টাউন জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া সকাল সাড়ে ৭টায় খুলনা আলিয়া মাদ্রাসার মডেল মসজিদে ঈদের অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি সিটি কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনায় ও ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের তত্ত্বাবধানে নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে পৃথক পৃথক সময়ে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। অন্যান্য মসজিদ ও ঈদগাহ্সমূহে পরিচালনা কমিটি জামাতের সময় নির্ধারন করবে। ঈদের দিন সকল সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি স্বায়ত্তশাসিত ভবনে যথাযথ সঠিক রঙ ও মাপের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা, সূর্যাস্তের পূর্বে নামানো, নগরীর প্রধান প্রধান সড়কসমূহ ও গুরুত্বপূর্ন চত্ত্বর সড়কদ্বীপ ও সার্কিট হাউজ ময়দান জাতীয় পতাকা ও ঈদ মোবারক (বাংলা ও আরবি) খচিত ব্যানার দিয়ে সজ্জিত করা হবে। বিভিন্ন হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, ভবঘুরে কল্যান কেন্দ্র ও দুস্থ কল্যান কেন্দ্রে ঈদ উপলক্ষ্য বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হবে। নগরীতে বাড়তি নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে। চাকুরীজীবি মোঃ আকতারুজ্জামান খান জানান, প্রথম মহান আল্লাহ তালার শুকরিয়া কোরবানী করার তৌফিক দান করেছেন। পরিবারের বড় ভাইদের সাথে করে ঈদগাহ্ েগিয়ে ঈদের নামায় আদায় করবো। নামাজের পর বাবার কবর জিয়ারত করতে যায়। তারপর আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি আদায়ের জন্য পশু কোরবানী করবো। তাসনিমুর রহমান আরিক জানান, বাবা ঈদে নতুন জামা, প্যান্ট, পাঞ্জাবী, জুতা কিনে দিয়েছে। নতুন কাপড় পড়ে ঈদগাহ্ ে নামাজ পড়তে যাবো। নামাজ শেষে দাদার কবর জিয়ারত করবো। বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিবো। পটকা ফোটাবো। কত যে মজা হবে।

