এই বর্ষায় খুলনার সবজি বাজারে আগুন!

ফসল নষ্টের অজুহাতে সবজির দাম বাড়তি নিচ্ছে বিক্রেতারা, অভিযোগ ক্রেতাদের, সবজি কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন সল্প আয়ের মানুষ, বাজার মনিটরিংয়ের দাবি
মোঃ আশিকুর রহমান ঃ এই আষাঢ়ের মুষলধারে বর্ষায়ও খুলনার সবজি বাজারে জ্বলছে আগুন। লাগামহীন সবজির দাম। যেন হুড় হুড় করে বেড়েই চলেছে প্রতিটি সবজির দাম। সবজির দাম এতোটাই অস্বাভাবিক যে সবজি কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন সল্প আয়ের মানুষ। এমতাবস্থায় ক্রেতারা বাজার মনিটরিংয়ের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট। বাজারে দৃশ্যমান সবজির দাম বাড়তি পেছনের বিক্রেতারা যে সকল কারণ দেখাচ্ছেন তা অনেকটাই অযৌক্তিক আর গতানুগতিক বলে মনে করছেন, বাজারে আসা একাধীক ক্রেতারা। বিক্রেতারা বলছেন, প্রাকৃতিক দূর্যোগ, বিশেষ করে ঘূর্নিঝড় রেমাল, অতিমাত্রায় তাপদাহ্ ও বৃষ্টির কারণে খুলনার স্থানীয় অঞ্চলসহ বিভিন্ন জেলা শহরের অঞ্চল গুলোতে কৃষকের ক্ষেতের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়-বর্ষার কারণে ফসলের গোড়া পঁচে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতি সাধণ হচ্ছে কৃষকের। যে কারণে ওই সকল অঞ্চল সমূহে উৎপাদিত ফসল চাহিদার তুলনায় ঘাটতি রয়েছে, যার প্রভাব স্থানীয় বাজারের উপর পড়ছে। বিপরীতে বাজারে আসা ক্রেতা বলছেন, ব্যবসায়ীরা প্রাকৃতিক দূর্যোগে ফসলের ক্ষতির যে কারণ দেখাচ্ছেন তা অনেকাংশেই অযৌক্তিক আর গতানুগতিক। তাছাড়া পাইকারী বাজার ঘুরে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি সবজি ২০/২৫ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে বলে জানান ক্রেতারা। মঙ্গলবার (২ জুলাই) নগরীর সবজি বাজার ঘুরে দেখা গেছে , কাঁচা ঝাল প্রতিকেজি ২৪০টাকা, বেগুন প্রতি কেজি ১০০টাকা, কাকরোল ৯০টাকা, বরবটি সীম ১০০ টাকা, কঁচুর লতি ৭০ টাকা, কঁচুরমুখি ১০০ টাকা, উচ্ছে ১০০ টাকা, পটল ৪০টাকা, ওল ১২০ টাকা, কচু ৭০টাকা, ঝিঙে ৯০টাকা, ঢ়েড়শ ৮০টাকা, পেপে ৫০টাকা, কুশি ৬০টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, পুইশাক ৪০ টাকা, লালশাক ৪০টাকা, ধুন্দল ৫০ টাকা, লাউ প্রতি পিছ ৬০/৭০ টাকা, জালি ৫০ টাকা, কলা প্রতি হালি ৪০টাকা, আলু ৬০টাকা, আমড়া ৬০টাকা, পেয়াজ ৯০টাকা, রসুন ২৪০টাকা, খিরাই ৬০টাকা, গাজর ২০০টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কাচাঝাল বিক্রি হচ্ছে ১৪০/১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা সবজি বিক্রেতারা জানিয়েছে, প্রাকৃতিক দূর্যোগ, বিশেষ করে ঘূর্নিঝড় রেমাল, অতিমাত্রায় তাপদাহ্ ও বৃষ্টির কারণে খুলনার স্থানীয় অঞ্চলসহ বিভিন্ন জেলা শহরের অঞ্চল গুলোতে কৃষকের ক্ষেতের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়-বর্ষার কারণে ফসলের গোড়া পঁচে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতি সাধণ হচ্ছে কৃষকের। যে কারণে ওই সকল অঞ্চল সমূহে উৎপাদিত ফসল চাহিদার তুলনায় ঘাটতি রয়েছে, যার প্রভাব স্থানীয় বাজারের উপর পড়ছে। তারা আরো জানান, পাইকারী বাজার হতে যে দামে সবজি কিনি, খরচ-খরচা বাদে ক্রেতাদের নিকট কেজি প্রতি ১০/১৫ টাকা বেশি দরে বিক্রি করি। অপরদিকে বাজারে আসা ক্রেতা সাধারনত জানিয়েছেন, বিক্রেতা যে অজুহাতে সবজির বাড়তি দাম নিচ্ছে এটা অজুহাত ছাড়া কিছু না। কারণ, একটু গরম পড়লে, তীব্র গরমে ফসল নষ্ট, একটু বৃষ্টি বেশি হলে ক্ষেতের ফসল নষ্টের অজুহাত। একটা না একটা অজুহাত দেখিয়ে তারা সারা বছরই ক্রেতাদের জিম্মি করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। বাজার সঠিক মনিটরিং না হওয়ার কারনেই এমন অবস্থা। ক্রেতা আব্দুল হাকিম জানান, সবজি বাজারে যথেষ্ট আমদানী বা সরবরাহ রয়েছে। তারপরও সবজির দাম আকাশ ছোয়া। বর্তমানে বাজারে ৬০/৭০ টাকার নিচে কেজিকে কোনো সবজি কেনার উপায় নেই। ১/২’শ টাকার নিয়ে সবজি বাজারে ঢুকলে মাত্র দু’প্রকার সবজি কেনা যাচ্ছে। আর মাছ-মাংস, চাল-ডাল তো পরেই থাকলো। সাধারন মানুষ বাচবে কি করে? দাম বাড়তির কারণ জানতে চাইলে বিক্রেতাদের অজুহাতের শেষ নেই। অপর ক্রেতা আফজাল জানান, বাজারে কাচা সবজির গায়ে যেন আগুন লেগেছে। সামান্য কাচা মরিচ তাও ২৪০টাকা কেজি। অন্যান্য সবজিও একই অবস্থা, দাম বেশি। আমরা সাধারণ নি¤œ আয়ের মানুষ যাবো কোথায়? বাজার করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছি। দৌলতপুর বাজারের ব্যবসায়ী মোহাম্মাদ জানান, আমরা খুরচা বিক্রিতারা পাইকারী বাজার হতে যে দামে সবজি কিনি, খরচ-খরচা বাদে কেজি প্রতি ১০/১২ টাকা বেশি দামে বিক্রি করি। কারন সেই ভোর রাত হতে তীব্র গরমে রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে সবজি বিক্রি করি। বাজারে সবজির দাম একটু বাড়তি, মুকামে বর্তমানে সবজি বাড়তি দামে কেনা লাগছে বলে জানিয়েছেন ব্যাপারীরা। তাছাড়া প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণে খুলনার স্থানীয় অঞ্চলসহ বিভিন্ন জেলা শহরের অঞ্চল গুলোতে কৃষকের ক্ষেতের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। যে কারণে চাহিদার তুলনায় বাজারে সবজির সরবরাহ কম। দৌলতপুর বাজার খুচরা কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শেখ পলাশ হোসেন জানান, বর্তমানে বাজারে সবজির দাম একটু বেশি। কারণ, প্রাকৃতিক দূর্যোগ বিশেষ করে ঘূর্নিঝড় রেমাল, অতিমাত্রায় গরমসহ বৃষ্টির কারণে খুলনার স্থানীয় অঞ্চলসহ বিভিন্ন জেলা শহরের অঞ্চল গুলোতে কৃষকের ক্ষেতের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়-বর্ষার কারণে ফসলের গোড়া পঁচে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতি সাধণ হচ্ছে কৃষকের। যে কারণে ওই সকল অঞ্চল সমূহে উৎপাদিত ফসল চাহিদার তুলনায় ঘাটতি রয়েছে, যার প্রভাব স্থানীয় বাজারের উপর পড়ছে।



