বামজোটের উদ্যোগে শোক মিছিলে পুলিশী বাধার তীব্র প্রতিবাদ

# কোটা সংস্কার আন্দোলনে শহীদদের স্মরণ #
খবর বিজ্ঞপ্তি ঃ বাম গণতান্ত্রিক জোট খুলনা জেলা কমিটির উদ্যোগে কোটা সংস্কার আন্দোলনে হত্যার বিচার ও সংকটের রাজনৈতিক সমাধানে ছাত্র-জনতা হত্যার দায় নিয়ে শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগ করার দাবিতে এবং শহীদদের স্মরণে শোক মিছিলে পুলিশী বাধা প্রদানের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাম জোটের নেতৃবৃন্দ। ২৯ জুলাই ’২৪ বিকেল সাড়ে পাঁচটায় পিকচার প্যালেস মোড় থেকে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি পালনে পুলিশ বাধা দেয় এবং আগত ছাত্র-জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে নেতৃবৃন্দ শহীদ হাদিস পার্কে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে চাইলে সেখানেও যেতে দেয়া হয়নি এবং হাদিস পার্ক থেকে সকল মানুষকে বের করে দিয়ে গেইট বন্ধ করে দেয়া হয়। বাম জোটের খুলনা জেলা কমিটির সমন্বয়ক ও কমিউনিস্ট পার্টি খুলনা জেলা সভাপতি ডা. মনোজ দাশ, সাধারণ সম্পাদক এস এ রশীদ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ খুলনা জেলা আহ্বায়ক জনার্দন দত্ত নান্টু, সদস্য সচিব কোহিনুর আক্তার কণা, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ খুলনা জেলা সম্পাদক গাজী নওশের আলী, সিপিবি খুলনা জেলা যুগ্ম সম্পাদক শেখ আব্দুল হান্নান, সম্পাদকম-লীর সদস্য সুতপা বেদজ্ঞ, মহানগর কমিটির সভাপতি এইচ এম শাহাদাৎ, কমিউনিস্ট লীগ খুলনা জেলা সম্পাদকম-লীর সদস্য মোজাম্মেল হক খান, ডা. সমরেশ রায়, বাসদ খুলনা জেলা কমিটির সদস্য আব্দুল করিম, অ্যাড. সনজিত মন্ডল প্রমুখ পুলিশের এই ন্যাক্কারজনক ভূমিকার প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, এই অবৈধ সরকার সবসময় বুঝিয়ে দিচ্ছে দেশে মানুষের বিন্দুমাত্র গণতান্ত্রিক কোন অধিকার নেই। সারাদেশে ফ্যাসিবাদী কায়দায় হত্যা, গুম, গণগ্রেফতার, নির্যাতন চলছে। নিয়মতান্ত্রিক প্রতিবাদের সমস্ত রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু ইতিহাস বলে এভাবে বলপূর্বক ক্ষমতা নিরঙ্কুশ করার চেষ্টা ভালো হয় না। আজও সারাদেশে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে পুলিশের হামলা, গ্রেফতারের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন নেতৃবৃন্দ। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, সারাদেশে অব্যাহতভাবে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের গ্রেপ্তার-দমন-নির্যাতনের নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকার। শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে দলীয় পেটোয়াবাহিনী ছাত্রলীগ দিয়ে হামলা করার মধ্য দিয়ে আন্দোলন যে সহিংস রূপ ধারণ করেছে তার সম্পূর্ণ দায়ভার সরকারের। সারাদেশে পুলিশ ও ছাত্রলীগের গুলি ও হামলায় কয়েকশত ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের উপর নির্মম হামলা ও ছাত্রী লাঞ্ছনার প্রেক্ষিতে দেশের সর্বত্র বিক্ষুব্ধ ছাত্র-শ্রমিক-অভিভাবকসহ সাধারণ জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে আন্দোলনে নেমে আসে। ছাত্রদের ন্যায়সঙ্গত দাবি না মেনে এই বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতাকে ষড়যন্ত্রকারী, সন্ত্রাসী ও দুর্বৃত্ত তকমা দিয়ে আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপকৌশলে লিপ্ত হয়েছে সরকার। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের পূর্বেই বিরোধী দলের উপর দায় চাপানো তদন্তকে নিপীড়নের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার অপকৌশল মাত্র। ভোটারবিহীন নির্বাচন, চূড়ান্ত গণতন্ত্রহীনতা, অবাধ দুর্নীতি-লুটপাট, বিরোধী দল-মত দমন, বেকারত্ব, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, ক্যাম্পাসগুলিতে ছাত্রলীগের অব্যাহত সন্ত্রাস-দখলদারিত্ব সর্বস্তরের জনগণ ও ছাত্রসমাজকে বিক্ষুব্ধ করে তুলেছে যার ফলাফল আজকের প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, গণবিক্ষোভকে আপাত প্রশমনের লক্ষ্যেই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কোটা সংস্কারের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। আন্দোলনের শুরু থেকে শিক্ষার্থীরা দাবি করছে একটি স্বাধীন কমিশন গঠন, বিভিন্ন অংশীজনের মতামত গ্রহণের মধ্য দিয়ে কোটা ব্যবস্থার যৌক্তিক সংস্কার ও তা সংসদে আইন পাশ করে কার্যকর করা। অপরদিকে কয়েকশত শিক্ষার্থীর লাশের উপর দাঁড়িয়ে সরকার তড়িঘড়ি করে যে প্রজ্ঞাপন জারি করলো তাতে কোটা ব্যবস্থার যৌক্তিক সংস্কার ঘটেনি বরং যে দুর্বলতা আছে তা ভবিষ্যতে আরও জটিলতার জন্ম দিতে পারে। আন্দোলন দমনের লক্ষ্যে একদিকে হত্যা নির্যাতন চালানো এবং পরবর্তীতে আন্দোলনকারীদের গ্রেফতার, নির্যাতন করে স্বীকারোক্তি আদায় করা ও আন্দোলন প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেয়ার প্রতিবাদ জানিয়ে নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে সংকটের রাজনৈতিক সমাধানে শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগ এবং ছাত্র-জনতা হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচার দাবি করেন।



